লাবলূ মিয়া:
টাঙ্গাইল জেলার রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের এক পরিচিত মুখ সুলতানা বিলকিস লতা। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের টাঙ্গাইল জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল জেলা নারী উদ্যোক্তা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল সদর আসনে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে।
রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করে এলাকায় ইতোমধ্যে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন সুলতানা বিলকিস লতা। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠিত করা, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণে সহযোগিতা করার মাধ্যমে তিনি টাঙ্গাইল জেলার বহু নারীর আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ সুগম করেছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকার কারণে টাঙ্গাইল সদর আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সুলতানা বিলকিস লতার গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা সাধারণ মানুষের মাঝেও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শীতবস্ত্র বিতরণ, অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা এবং নারীদের কর্মসংস্থান তৈরিতে তাঁর উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
টাঙ্গাইল জেলা নারী উদ্যোক্তা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেন। এর মাধ্যমে অনেক নারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ পথচলায় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখিও হয়েছেন সুলতানা বিলকিস লতা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত প্রায় ১৭ বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক হয়রানি ও প্রতিবন্ধকতার শিকার হলেও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। দলীয় কর্মকাণ্ড ও জনসংযোগ অব্যাহত রেখে তিনি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-সদর ৫ আসনে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ টুকু–এর পক্ষে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারণা চালান এবং নির্বাচনী কার্যক্রমকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এ বিষয়ে সুলতানা বিলকিস লতা বলেন,
“আমি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে নারীদের উন্নয়ন ও তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা আমার অন্যতম লক্ষ্য। জনগণ যদি সুযোগ দেয়, তাহলে টাঙ্গাইল সদর আসনের উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের সেবা করা এবং সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেই লক্ষ্য নিয়েই তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।
বর্তমানে টাঙ্গাইল সদর আসনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন সুলতানা বিলকিস লতা। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সঙ্গেও মতবিনিময় করে যাচ্ছেন তিনি। এতে করে আসন্ন নির্বাচনে তাঁর সম্ভাবনা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও নতুন করে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, নারী নেতৃত্বকে সামনে এনে রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন সুলতানা বিলকিস লতা। তাদের বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে টাঙ্গাইল সদর আসনে তিনি একজন শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে টাঙ্গাইল সদর আসনে সুলতানা বিলকিস লতা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, নারী নেতৃত্বের বিকাশে তাঁর মতো নেত্রীর অংশগ্রহণ স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।