আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চারপাশে মানুষের স্বাভাবিক জীবন, অথচ তার জীবন যেন আটকে আছে পানির নিচে। ডাঙায় উঠলেই শরীরজুড়ে শুরু হয় অসহ্য জ্বালাপোড়া—এমন দাবি ১৬ বছরের এক কিশোরের। তাই দিনের বেশিরভাগ সময় তাকে কাটাতে হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর পুকুরের পানিতে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার এই কিশোরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
কিশোরটির নাম ইকবাল। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় এক মাস ধরে তাকে দিনের পর দিন পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখা যাচ্ছে। কখনো এক পুকুর থেকে অন্য পুকুরেও চলে যায় সে। এমনকি পানির মধ্যেই খাবার পৌঁছে দেন স্থানীয়রা।
ইকবালের দাবি, পানি থেকে ডাঙায় উঠলেই সারা শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয়। সেই যন্ত্রণা থেকে বাঁচতেই পানিতে থাকা তার কাছে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। তবে কেন এমন হচ্ছে, তার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
ইকবালের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার খরচ বহন করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে তার চিকিৎসার জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থার কথাও জানা গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় পানিতে অবস্থান করা শরীরের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। এতে ত্বক অতিরিক্ত নরম ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ইকবালের শরীরে জ্বালাপোড়ার প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরীক্ষা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে কিশোরটির হাত-পায়ের ত্বক বিবর্ণ ও নরম হয়ে গেছে। তার ঠান্ডা-কাশির সমস্যাও দেখা দিয়েছে। তবুও ডাঙায় উঠতে চাইছে না সে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইকবালের এই অস্বাভাবিক জীবনযাপনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। স্থানীয় কয়েকজন ও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে তাকে পানি থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, ইকবালের সমস্যার পেছনে বিরল কোনো হরমোনজনিত বা জিনগত কারণ থাকতে পারে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। উন্নত পরীক্ষার জন্য তাকে মুম্বাইয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
একজন কিশোরের স্বাভাবিক জীবন যেখানে স্কুল, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটার কথা, সেখানে দিনের পর দিন পুকুরের পানিতে কাটছে তার সময়। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কী কারণে ডাঙায় উঠলেই তার শরীরে এমন অসহ্য জ্বালা শুরু হয়? সেই রহস্যের উত্তর খুঁজতেই চিকিৎসার দিকে তাকিয়ে ইকবাল ও তার পরিবার।