স্টাফ রিপোর্টার:-
জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে জনতার দল। বুধবার (১৯ মে) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জনতার দলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শামীম কামাল বলেন, তিস্তা মহা পরিকল্পনা নিয়ে বা তিস্তা প্রজেক্ট নিয়ে স্বাধীনতা পর বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল তালবাহানা করছেন , তিস্তা মহা পরিকল্পনা নিয়ে বারো হাজার কোটি টাকা দরকার , সেই ১২ হাজার কোটি টাকার জন্য আমরা কখনো চীনের উপরে কখনো ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকি , আমরা দেখলাম গত সপ্তাহে পদ্মা ব্যারেজ এর জন্য নিজস্ব অর্থায়নে ৩৫ হাজার কোটি টাকার চেক নাকি অনুমোদন হলো যদি গুরুতরু দিক থেকে দেখেন সবচেয়ে প্রথম বাংলাদেশের যেটা পানির সংকট চুক্তি হওয়া উচিত সেটা হল চুক্তির চাপ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রজেক্ট, সেটাকে বাদ দিয়ে হঠাৎ করে কোন আলোচনা কোন গবেষণা না করে নিজস্ব অর্থায়নে চেক নাকি অনুমোদন হয়, তিস্তার গবেষণা আসলেই কেন বারবার ভারতের টিকেট ঢেলে দেওয়া হয় এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্র বলে আমি মনে করি, নটবেঙ্গল কে বাংলাদেশের উজিরপুরি বলা হয়ে থাকে, নটবেঙ্গল থেকে বাংলাদেশের সব জায়গা খাদ্যপণ্য যায় কিন্তু উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত বিভাগ রংপুর, স্বাধীনতার পরে রংপুরে কোন উন্নয়ন হয়নি, সকল উন্নয়ন আমরা দেখতে পাচ্ছি বগুড়া গিয়ে থেমে যাচ্ছে,, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়ার গবেষণা হচ্ছে,, এখন বিদ্যমান যে বিমান বন্দর গুলি আছে তার মধ্যে প্রথম যদি কোন বিমানবন্দর থাকে তা হল লালমনিরহাট, কারণ এখান থেকে ভারতের সেভেটিসেক্স ভারত ভুটান নেপাল এবং চীন সবচেয়ে নিকটবর্তী বিমানবন্দর হতে পারত এটা , এখন একটা মাত্র রাস্তা যদি পুরো বাংলাদেশে ভালো লেন হওয়া রাস্তা থাকে সেটা হচ্ছে লালমনির থেকে ভূরুমারী পর্যন্ত ,।তিস্তা নদীর পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ, জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ভারতের একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের কারণে উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ একর জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে এবং সেখানে পানিসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, অবিলম্বে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে বিশ্বব্যাংক সফলভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল। তিস্তা চুক্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
জনতার দলের চেয়ারম্যান প্রশ্ন তুলে বলেন, “তিস্তাকে বাদ দিয়ে পদ্মা ব্যারেজ কেন? উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনের এত বড় সংকট থাকা সত্ত্বেও তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে জাতীয় অগ্রাধিকার না দিয়ে অন্য প্রকল্পকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কেন?”
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষকদের দুরবস্থার বিষয়ও তুলে ধরা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, কৃষকরা উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, সরকারি ক্রয়কেন্দ্রের অপ্রতুলতা এবং বাজার মনিটরিংয়ের দুর্বলতার কারণে কৃষকরা চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়। টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং সচেতনতার অভাবে শিশুরা ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা। জনতার দল জাতীয় পর্যায়ে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ, আক্রান্ত এলাকায় চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
শামীম কামাল বলেন, “তিস্তা আমাদের জাতীয় জীবনের প্রাণ। নিজস্ব অর্থায়নে ও নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, আর শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করতে পারলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়বে।”
তিনি সরকারের কাছে এ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।