মোঃ আনজার শাহ:
দলের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন কঠোর ও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় কখনোই অন্যায়কে বৈধতা দেওয়ার ঢাল হতে পারে না; বরং জনগণের সেবাই রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের মধ্য লক্ষীপুর বাজারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শাকপুর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার মোঃ ছফিউল্লাহ মুন্সি।
সভায় কায়সার আলম সেলিম বলেন, “দলকে ভালোবাসতে হলে প্রথমে জনগণকে সম্মান করতে হবে। কেউ যদি দলের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীকে দলীয় পরিচয়ের কারণে ছাড় দেওয়া হবে না।” তার এই বক্তব্যে সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক সাড়া পড়ে এবং শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আচরণই দলের প্রকৃত পরিচয় বহন করে। তাই প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা, সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে না পারলে কোনো রাজনৈতিক অর্জনই দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
উন্নয়নের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক বার্তা
সভায় বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফলেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এই ধারা বজায় রাখতে হলে দলীয় বিভাজন পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, বরুড়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (এমপি) নেতৃত্বে এলাকায় উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়ক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষি খাতে উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এলাকার সার্বিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে বলে তারা জানান।
আসন্ন নির্বাচন ও সাংগঠনিক নির্দেশনা
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও সভায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দল যাকে মনোনীত করবে, তার পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ব্যাপক অংশগ্রহণ ও প্রাণবন্ত পরিবেশ
উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন ছিল উৎসবমুখর।
শৃঙ্খলার বার্তায় সমাপ্তি
বিজয়ের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার, জনমুখী রাজনীতি প্রতিষ্ঠা এবং ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘটে। উপস্থিত নেতাকর্মীরা মনে করেন, কায়সার আলম সেলিমের এই কঠোর বার্তা দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।