আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের রাজধানী দিল্লিকে কার্যত কারাগারে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, দিল্লিতে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে মানুষকে, থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে ট্রেন ও বাস। একই সঙ্গে সংবিধান রক্ষা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
কংগ্রেসের পূর্বনির্ধারিত পদযাত্রার আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রাহুল গান্ধী। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের কথিত নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও দেখান তিনি।
রাহুল বলেন, মানুষকে দিল্লিতে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং ট্রেন ও বাস থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, ভারতের রাজধানীকে কেন দুর্গ কিংবা কারাগারে পরিণত করা হয়েছে?
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে রাহুল গান্ধী বলেন, বিরোধী নেতাদের আটক করার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেন পদত্যাগ করছেন না, সেই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। তাঁর দাবি, বিরোধী নেতারা সেই একই প্রশ্ন তুলছেন, যে প্রশ্ন আগে দুই নির্বাচন কমিশনারও তুলেছিলেন।
জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ করে রাহুল আরও বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তিনি দায় এড়াতে পারেন না। লাখ লাখ মানুষ তাঁর কাছে জবাব চাইছে এবং এই প্রশ্ন তোলা বন্ধ হবে না।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধ
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে বিরোধী দলগুলো। এ প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের বিরোধ তীব্র হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ২০০ কর্মকর্তা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।
তিনি বলেন, সংবিধান সমুন্নত রাখা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তরুণেরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কংগ্রেসও এ লড়াই থেকে পিছু হটবে না বলে জানান তিনি।
রাহুলের বক্তব্য, নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করাই তাঁদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
পদযাত্রায় সংহতির আহ্বান
সুপ্রিম কোর্টের দিকে কংগ্রেসের প্রস্তাবিত পদযাত্রায় সাধারণ মানুষকে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী।
তিনি বলেন, যারা কোনো কারণে সরাসরি পদযাত্রায় অংশ নিতে পারবেন না, তাঁরাও যেন আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানান এবং সংবিধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
রাহুলের আহ্বান, দেশে যা ঘটছে, তার বিরুদ্ধে মানুষ যেন নিজেদের মত প্রকাশ করেন এবং সংবিধান রক্ষার অঙ্গীকার করেন।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।