দুই দশক পর ইরাকের শেষ সামরিক ঘাঁটি ছাড়ছে মার্কিন সেনারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রায় দুই দশক পর ইরাকে থাকা শেষ সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী কয়েকশ মার্কিন সেনার ইরাক ছাড়ার কথা রয়েছে। এতে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সেনারা মূলত ইসলামিক স্টেট (আইএস/আইএসআইএল)বিরোধী জোটের অভিযানে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া ওই অভিযানের পর থেকে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত ছিল।

ইরাকি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে যে সমঝোতা হয়েছিল, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই এই প্রত্যাহার কার্যকর হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারকে ইরান ও দেশটির মিত্ররা বিজয় হিসেবে দেখছে। ইরাকের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইরান ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের প্রভাব আরও বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

মার্কিন সেনাদের বিদায়ের পর ইরাকে চার দিনব্যাপী ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ পালনের প্রস্তুতি চলছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের অবসানের প্রতীক হিসেবে এ আয়োজনকে দেখা হচ্ছে।

তবে সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকের সামনে আরও কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে। দেশটির বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং তুরস্কসহ অন্যান্য বিদেশি শক্তির উপস্থিতিকে নিজেদের অস্ত্র ও পৃথক কমান্ড কাঠামো বজায় রাখার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে। এরই মধ্যে কিছু গোষ্ঠী অস্ত্র সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট সিলিম্যানের মতে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রতি বেশি অনুগত এবং সরকারের অনুমোদন ছাড়া অস্ত্র ব্যবহার করা গোষ্ঠীগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, এখন তাদের হাতে অস্ত্র রাখার রাজনৈতিক যুক্তি নেই।

তবে এই উদ্যোগকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মনে করা হচ্ছে। এর ফলে ইরাকের অভ্যন্তরে ইরানের প্রভাব আরও বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে দেশটিতে সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে ইরাকভিত্তিক কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা স্থাপনায় হামলা চালালে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও চাপ বাড়তে পারে। সিলিম্যান বলেন, সামনে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি ও তার প্রতিরক্ষা দলের জন্যও কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *