দুর্গাপুরের বিরিশিরি বাজারে মাদক ও দেহব্যবসার অভিযোগ: এলাকাবাসীর ক্ষোভ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের কাপাসাটিয়া বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও দেহব্যবসার বিস্তার ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্যে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও তা দেখার যেন কেউ নেই। ফলে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা ও উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল হেকিমের ছেলে মো. আব্দুল করিমের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বাজারকেন্দ্রিক এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা প্রকাশ্যেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এছাড়া একই চক্রের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের এনে দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, মো. কামাল মিয়ার স্ত্রী আয়েশা খাতুন ও সখিনা আক্তারসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় সরকারি জমিতে ঘর নির্মাণ করে সেখানে এসব অপকর্ম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ঢাকা থেকে আগত জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করলে বাজার ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তাদের ভাষ্য, সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও দেহব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র।

স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে এই কারণে যে, অভিযুক্ত স্থাপনাগুলোর আশপাশেই রয়েছে মসজিদ, স্কুল, মাদ্রাসা ও বাজার। এতে শিশু-কিশোরসহ সাধারণ মানুষের নৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মসজিদের ইমামসহ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বারবার আবেদন জানানো হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।

এলাকাবাসী আরও বলেন, দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী অবস্থানের সুযোগ নিয়ে এই চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সীমান্তঘেঁষা এলাকা হওয়ায় নজরদারির দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তারা তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

বিচার দাবিতে যারা সরব হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন—মসজিদ কমিটির মো. আলামিন মোড়ল, সাবেক ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, মো. আব্দুল কাশেম, মো. আব্দুল লতিফ, মো. জালাল শেখ, শ্রী কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার, সুজন চন্দ্র দাস, মো. সাইদুল ফকির, মো. এমদাদুল হক, সাইকুল ইসলাম, মো. আসাদ মিয়া, মো. শাজাহান মিয়া, মজিদ খান, বর্তমান ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দিন, মোছা. আসমা আক্তার, রাশিদা বেগম, লিপি আক্তার, মনোয়ার বেগম, রশিদা আক্তারসহ এলাকার আরও অনেকে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *