তানজিলা আক্তার লিপি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় নকল সনদপত্র ব্যবহার করে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক পদে চাকরি গ্রহণ এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাঃ আরিফুল ইসলাম ২০০২ সালের আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও উত্তীর্ণ দেখিয়ে পরবর্তীতে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। অভিযোগে বলা হয়, ওই পরীক্ষায় তিনি একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য ছিলেন, তবুও ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে শিক্ষকতার যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করেন।
এছাড়া আরও অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে তিনি ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখা থেকে বিএ (অনার্স) সনদপত্র সংগ্রহ করে তা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী ছিলেন না এবং সনদপত্রটি প্রকৃত নয়।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে শওকত আবুল কালামসহ একাধিক ব্যক্তি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে প্রায় ১১ পাতার সংযুক্তি হিসেবে বিভিন্ন নথি ও তথ্য উপস্থাপন করা হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে করে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিষ্পত্তির পরিবর্তে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনকি উপজেলা শিক্ষা অফিস পর্যায়ে বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।
এদিকে, অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—একাধিক দপ্তরে অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও কেন কোনো তদন্ত কমিটি গঠন বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সনদপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা ও বিতর্ক আরও বাড়ছে।