নিরাপদ খাদ্য ও শিশুপুষ্টি নিশ্চিতকরণে চট্টগ্রামে ENOUGH ক্যাম্পেইন

মোঃ সোহেল:

নিরাপদ খাদ্য ও শিশুপুষ্টি নিশ্চিতকরণে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বানের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে বহুখাতভিত্তিক অংশীজনদের নিয়ে ENOUGH ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কর্ণফুলী এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের উদ্যোগে এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কর্ণফুলী এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনি রোজারিও। নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে মুখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি ও পোলট্রি সায়েন্স বিভাগের এবং পোলট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার, চট্টগ্রামের পরিচালক ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডেপুটি ডিরেক্টর (স্বাস্থ্য) কামরুল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী, চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তপন কুমার চক্রবর্তী।

এনজিও প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আলী সিকদার, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমীন পারভিন, ঊষা নারী উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার পিযুশ দাশ গুপ্ত, অপরাজেয় বাংলাদেশের ইনচার্জ জিন্নাত আরা বেগম এবং সিডিসির নির্বাহী পরিচালক লুৎফুন্নেসক রুপসা।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেনিস তপ্ন, রীতা দোলন রোজারিও, শারমিন আক্তার, রিপা চাকমা, পায়েল খ্রীস্টিনা দাশ ও স্মীতা দে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য শুধু খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করলেই হবে না; খাদ্য হতে হবে নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর। শিশুর খাদ্য অনিশ্চয়তা ও অপুষ্টি দূর করতে পরিবার, কমিউনিটি, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশনের বৈশ্বিক ENOUGH প্রচারাভিযান শিশুর খাদ্য অনিশ্চয়তা ও অপুষ্টি দূরীকরণে একটি সম্মিলিত উদ্যোগ। এ উদ্যোগ শুধু দান বা পৃষ্ঠপোষকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নীতি ও ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিবর্তনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেয়।

ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য—বাংলাদেশের শূন্য থেকে ১৮ বছর বয়সী প্রতিটি শিশু যেন পর্যাপ্ত, পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবার পেয়ে খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যে বেড়ে উঠতে পারে।

আলোচনায় জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার এসডিজি-২ ‘জিরো হাঙ্গার’ অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ক্ষুধার অবসান, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পুষ্টির উন্নয়ন এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারের পাশাপাশি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের সর্বজনীন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন বক্তারা।

এ সময় সব ধরনের অপুষ্টি দূরীকরণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ক্যাম্পেইনের আওতায় টেকসই কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ, খাদ্য ও পুষ্টি-সংক্রান্ত অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, স্কুল মিল কার্যক্রম, কমিউনিটি পর্যায়ে পুষ্টিবিষয়ক কর্মশালা, প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে রেফারেল লিংকেজ এবং খাদ্য বিতরণ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার মতো উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত, এনজিও এবং কমিউনিটির সম্মিলিত কার্যকর অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

আলোচনা শেষে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার এবং প্রতিটি শিশুর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *