নাছিমা খাতুন সুলতানা:
নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিক্রমশ্রী গ্রামে ৯ বছর বয়সী শিশু তাহীয়া তাজনীন তোবা হত্যার ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও এখনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে দুপুরের দিকে তোবার বাবা মোঃ রফিকুল ইসলাম অটোগাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। কিছুক্ষণ পর বাড়িতে মাকে রেখে তোবা ছাগল খুঁজতে বাড়ির বাইরে যায়। সে সময় বাড়িতে অন্য কোনো লোকজন ছিল না। পরিবারের অভিযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একই দিন বিকেল প্রায় ৩টার দিকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তোবাকে হত্যা করে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে তোবার মা চিনি আক্তার ঘটনাস্থলে এসে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে বারহাট্টা থানা পুলিশ হাসপাতালে এসে নিহত শিশুর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি জানতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করেন।
নিহত তোবার মা চিনি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের এখলাছ মিয়ার ছেলে মোঃ জুনাইদ মিয়া তার মেয়েকে প্রায়ই কুপ্রস্তাব দিত। বিষয়টি তার মেয়ে তাকে আগেই জানিয়েছিল। ঘটনার দিনও তিনি পাশের একটি বন্ধ দোকানে জুনাইদ মিয়া ও অনিক মিয়াকে বসে থাকতে দেখেছেন বলে দাবি করেন। তার ধারণা, তার মেয়েকে তারাই হত্যা করেছে।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মোঃ রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জের নিকট অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে বিষয়টি হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। বারহাট্টা থানায় দায়ের হওয়া মামলার নম্বর ৩/৩৪ এবং এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তবে ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও এখনো কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেন, মামলার অগ্রগতি জানতে প্রতিনিয়ত থানায় যোগাযোগ করলেও এখনো সন্তোষজনক কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন না।
এদিকে ঘটনার পর থেকে নিহত শিশুর পরিবার গভীর শোক ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গ্রামবাসীরাও দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।