পতেঙ্গার স্বপ্ন বিলাস হোটেলে দেহ ব্যবসা ও ইয়াবা বাণিজ্যের অভিযোগ

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) পতেঙ্গা থানা এলাকার স্বপ্ন বিলাস হোটেলকে ঘিরে অবৈধ দেহ ব্যবসা ও ইয়াবা বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারীর বক্তব্যে হোটেলটিতে রাতের বেলায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁদের দাবি, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হোটেলটিতে এসব কর্মকাণ্ড চলে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেলটিতে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক বেচাকেনা চলছে। তাঁদের দাবি, রাত আটটার পর থেকে হোটেলটিতে লোকজনের আনাগোনা বাড়তে থাকে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জোরপূর্বক আটকে রাখা ও নির্যাতনের অভিযোগ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নারী অভিযোগ করেন, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ অভাবের কারণে এই পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। আবার কারও কারও দাবি, তাঁদের জোরপূর্বক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁদের কেউ কেউ দেহ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হোটেলটিতে আসা নারীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, রাতভর অবস্থানের পর ভোরে অনেক নারী হোটেল ছেড়ে চলে যান। প্রতিদিন কয়েকজন নারী সেখানে আসেন বলেও একজন অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

এ ছাড়া এক রাতে পাঁচ হাজার থেকে বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের দাবি করা হলেও এ অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, লেনদেনের ধরন এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত জরুরি।

শিক্ষার্থীদের অভিযানের পরও কার্যক্রম চলার অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য এর আগে পতেঙ্গা এলাকার বিভিন্ন হোটেলে অভিযান চালিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব অভিযানের পর কিছুদিন সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আবারও তা শুরু হয়।

আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সদস্য শান্ত ইসলাম জানান, তাঁরা এর আগে হোটেলগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছিলেন। তাঁর দাবি, এসব উদ্যোগের পরও পতেঙ্গা এলাকার কয়েকটি হোটেলে একই ধরনের কার্যক্রম চলার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

শান্ত ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় কয়েকজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযানের তারিখ, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালনার অভিযোগ

এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, স্থানীয় এক বিএনপি নেতার পাশাপাশি একটি স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকের ছত্রচ্ছায়ায় হোটেলটিতে কথিত অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছে। তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের নাম, তাঁদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ কিংবা এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।

স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, হোটেলটিতে সাংবাদিকের উপস্থিতির খবর পেয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে আসেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং পরে বিষয়টি পতেঙ্গা থানাকে অবহিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে ঘটনাটির সময়, উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয়, অস্ত্রের ধরন এবং থানায় অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইয়াবা বেচাকেনার অভিযোগেও তদন্তের দাবি

দেহ ব্যবসার অভিযোগের পাশাপাশি হোটেলটিতে ইয়াবা বেচাকেনার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, হোটেলটিতে রাতের বেলায় সন্দেহজনক লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়। তবে সেখানে মাদক কেনাবেচা হয় কি না, সে বিষয়ে কোনো যাচাইকৃত নথি, উদ্ধারসংক্রান্ত তথ্য কিংবা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। হোটেলটিতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁদের।

পুলিশের তদন্ত ও হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জরুরি

স্বপ্ন বিলাস হোটেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে পতেঙ্গা থানা পুলিশের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং অভিযোগকারীদের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে কোনো নারীকে জোরপূর্বক আটকে রাখা, যৌন নির্যাতন বা মাদক বেচাকেনার ঘটনা ঘটে থাকলে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *