পাঁচ টাকায় গাছ বিক্রি করে ভোট চাইলেন মাসুদুজ্জামান

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নির্বাচনী প্রচারের প্রচলিত ধারা ভেঙে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাসুদুজ্জামান আয়োজন করলেন ব্যতিক্রমী ‘বৃক্ষমেলা’। মাত্র পাঁচ টাকায় গাছ বিক্রি—এমন আয়োজন দেখতে এবং গাছ কিনতে বুধবার সকাল থেকেই নগরীর দেওভোগ এলাকার নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্কে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। দিনভর চলা এ আয়োজনে গাছের চারা হাতে নিয়ে ভোট চাওয়ার নতুন কৌশল জনমনে দারুণ সাড়া ফেলেছে।

সকালে পার্কে হাঁটতে এসে আয়োজনটির কথা জানতে পারেন নগরীর নয়ামাটির বাসিন্দা প্রিয়ন্তি সাহা। তিনি জানান, বেলা ১১টায় মেলা শুরু হওয়ার কথা শুনে ঠিক সময়েই এসে দাঁড়ান। প্রিয়ন্তির ভাষায়, “পাঁচটি গাছ কেনার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু ভিড় এত বেশি ছিল যে, আমাকে দুটির বেশি দেয়নি। একটি গোলাপ ও একটি গাঁদার চারা পেয়েছি।”

বিকেল ৫টার দিকে—মেলার একেবারে শেষ ভাগে—তল্লা এলাকার বাসিন্দা শওকত হোসেন গাছ কিনতে আসেন। গাছ কেনার সময় প্রার্থীর স্বেচ্ছাসেবকরা তাঁর কাছে ভোটও চান। শওকত বলেন, “মানুষ সাধারণত পোস্টার ব্যানার লাগিয়ে, জনসভা করে ভোট চান—এটাই দেখেছি এতদিন। কিন্তু বৃক্ষমেলার আয়োজন করে ভোট চাওয়া—এটি আমার কাছে নতুন এবং ভালো একটি আইডিয়া মনে হয়েছে।”

এ ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। নারায়ণগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তারেক বাবু বলেন, “নির্বাচনী প্রচারের মূল লক্ষ্য মানুষের মন জয় করা। মাসুদুজ্জামানের উদ্যোগ সত্যিই ব্যতিক্রমী এবং পরিবেশবান্ধব।”

নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে বিএনপির প্রার্থী মাসুদুজ্জামান বলেন, “বেশি করে গাছ লাগাতে পারলে আমরা একটি সুন্দর পরিবেশ ফিরে পাব। রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব শুধু সড়ক-শিক্ষা-চিকিৎসার উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমার এই বৃক্ষমেলার আয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদী দূষণমুক্ত করা, বেদখল হওয়া খাল উদ্ধার, নগরীতে সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। “এই আয়োজন পরিবেশের প্রতি আমার দায়বদ্ধতার প্রতীক,” যোগ করেন তিনি।

নির্বাচনের মাঠে ভিন্নধর্মী প্রচারের এ উদ্যোগে নাগরিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে ইতোমধ্যে। গাছের চারা হাতে ভোট চাওয়ার এ ব্যতিক্রমী প্রচার শহরজুড়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মন্তব্য করছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *