মোঃ মশিউর রহমান:
ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাজধানীর নভোথিয়েটারে গতকাল শুক্রবার শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের প্রতিপাদ্য ‘Innovate to Market’ বা ‘উদ্ভাবন থেকে বাজার’।
মেলায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রদর্শন করছে ‘Shaping the Future with Jute Fiber: Development and Commercialization of Innovative Materials’ শীর্ষক একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প।
প্রকল্পটির লক্ষ্য পাট ও পাটজাত অবশিষ্টাংশকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চমূল্যের ও পরিবেশবান্ধব উপাদানে রূপান্তর করা। এর অংশ হিসেবে পাটকাঠিকে পাইরোলাইসিস প্রক্রিয়ায় বায়োচার ও অ্যাক্টিভেটেড কার্বনে রূপান্তরের প্রযুক্তি দেখানো হয়েছে। এ অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ব্যবহার করে ইলেকট্রোড উপাদান ও সুপারক্যাপাসিটর তৈরির সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও Jute Polymer Nanotechnology Research Group-এর প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার বলেন, পাটের মধ্যে থাকা মূল্যবান পলিমার আহরণ করে উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন উপাদান তৈরি করা সম্ভব। পাটে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ সেলুলোজ ও ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ লিগনিন রয়েছে। এসব উপাদান কাজে লাগিয়ে নতুন ধরনের মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে পাট থেকে ন্যানো সেলুলোজ তৈরি করেছি এবং তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পাটের লিগনিন আহরণ ও প্রক্রিয়াকরণের কাজও চলছে। পাটকাঠি থেকে উচ্চ শোষণক্ষমতাসম্পন্ন কার্বন তৈরি করেছি, যা শক্তি সংরক্ষণ ও গ্রিন এনার্জির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, পাটের সেলুলোজ থেকে চিকিৎসা খাতেও বিভিন্ন ধরনের পলিমার তৈরি করা সম্ভব। পাটভিত্তিক এসব উপাদানের বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে নতুন শিল্প গড়ে তোলা এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
প্রকল্প টিমের সদস্যরা হলেন প্রভাষক মো. শাহাবুল হোসেন, সহকারী ব্যবস্থাপক মো. খাইরুল ইসলাম ও মো. আব্দুর রহমান। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কৃষিজ অবশিষ্ট পাটকাঠিকে শক্তি সংরক্ষণে ব্যবহারযোগ্য উপাদানে রূপান্তরের এ উদ্যোগ দেশের সবুজ ও টেকসই প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।