মোঃআনজার শাহ
কুমিল্লার বরুড়া এখন শুধু একটি উপজেলার নাম নয়; উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশা, রাজনৈতিক তাৎপর্য ও জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনার এক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। দীর্ঘদিনের যোগাযোগসংকট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, কারিগরি শিক্ষার অপ্রতুলতা ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে বরুড়াকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও জনবান্ধব উপজেলায় রূপ দেওয়ার প্রত্যাশা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এই প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন।
তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্ব, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং পারিবারিক সমাজসেবার ঐতিহ্যকে ঘিরে বরুড়ার মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশাবাদ। সড়ক যোগাযোগের সম্প্রসারণ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উপজেলার আর্থসামাজিক চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কুমিল্লার বরুড়া দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সচেতনতা, কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত। এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল, জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা হবে এবং উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি উদ্যোগ ত্বরান্বিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জাকারিয়া তাহের সুমন জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
উপজেলা গঠনের পর বরুড়া প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে। এ ঘটনাকে স্থানীয় মহল বরুড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অর্জন এবং নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখছেন।
একজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকলে স্থানীয় উন্নয়ন চাহিদা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। তবে সেই সুযোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সমন্বয়, স্বচ্ছতা এবং উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর।
জাকারিয়া তাহের সুমন ১৯৬৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব ও পারিবারিক পরিমণ্ডল তাঁর সঙ্গে বরুড়ার মাটি ও মানুষের একটি দীর্ঘস্থায়ী যোগসূত্র তৈরি করেছে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এই শিক্ষাগত পটভূমি তাঁর পরবর্তী শিল্প ও ব্যবসায়িক জীবনে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা যায়।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত একজন শিল্পোদ্যোক্তা। তাঁর প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজ করেন বলে জানা যায়।
শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বকে সমন্বিত করে বরুড়ায় কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারিত হতে পারে।
জাকারিয়া তাহের সুমন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা বরুড়ার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ।
জনপ্রতিনিধিত্বের মূল শক্তি জনগণের আস্থা। সেই আস্থা ধরে রাখতে উন্নয়ন পরিকল্পনায় দলমত-নির্বিশেষে মানুষের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া, নাগরিক সেবায় বৈষম্যহীনতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাকারিয়া তাহের সুমন বলেছেন, জনগণের সঙ্গে কেউ ক্ষমতা দেখাবেন না; ক্ষমতার দাপট বা আধিপত্য নয়, জনগণের সেবাই রাজনীতির মূল কাজ হওয়া উচিত। বরুড়ার মানুষও তাঁর নেতৃত্বে পরিকল্পিত উন্নয়ন, উন্নত নাগরিক সুবিধা এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধান দেখতে চান।
জাকারিয়া তাহের সুমনের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে তাঁর পিতা মরহুম এ কে এম আবু তাহেরের নাম। তিনি ছিলেন বরুড়ার পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পপতি, সমাজসেবক এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান।
তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে বরুড়া আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। ধারাবাহিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এলাকার রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরি করেন।
রাজনীতি ও ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। এলাকার চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে হাসপাতাল গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর রেখে যাওয়া জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আজও বরুড়ার মানুষের স্মৃতিতে স্থান করে নিয়েছে।
সোনাইমুড়ি হাসপাতাল: স্মৃতি ও জনসেবার প্রতীক
বরুড়ার সোনাইমুড়ি এলাকায় ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এ কে এম আবু তাহেরের জনকল্যাণমূলক ভাবনার উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
২০২৬ সালে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোনাইমুড়ি ২০ শয্যা হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘একেএম আবু তাহের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল’ রাখা হয়। এটিকে তাঁর জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্মৃতি সংরক্ষণের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেছেন, বাবার এই স্বপ্ন পূরণে তাঁকে প্রায় ২২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি জানান, এলাকার মানুষের চিকিৎসার কথা ভেবেই তাঁর বাবা এই হাসপাতালের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
তবে হাসপাতালের নামকরণই শেষ কথা নয়। এর প্রকৃত তাৎপর্য বাড়বে তখনই, যখন সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা এবং রোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিত হবে।
জাকারিয়া তাহের সুমনের পারিবারিক পরিচয় বরুড়ার রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর পিতা এ কে এম আবু তাহের ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও শিল্পপতি।
তাঁর ছোট ভাই ইয়াহিয়া শারমিন ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা। এভাবে পরিবারের একাধিক সদস্য রাজনীতি, শিল্প ও সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
জাকারিয়া তাহের সুমনের ব্যক্তিগত পরিবার সম্পর্কে জানা যায়, তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন।
একটি পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তখনই ইতিবাচক অর্থ বহন করে, যখন তা নতুন প্রজন্মের মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কাজে রূপ নেয়।
বরুড়ার উন্নয়নে সড়ক যোগাযোগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছানো এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে সড়কব্যবস্থার প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে।
জাকারিয়া তাহের সুমন জানিয়েছেন, বরুড়া উপজেলার ছোট-বড় প্রায় ৩০০টি রাস্তা বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর লক্ষ্য আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বরুড়ায় কোনো কাঁচা রাস্তা না রাখা।
বরুড়ার স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নে উপজেলায় ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
জটিল রোগের চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জরুরি সেবার জন্য অনেক রোগীকে এখনো বড় শহরমুখী হতে হয়। এতে সময় ও অর্থের ব্যয় বাড়ে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।
একটি কার্যকর হাসপাতালের জন্য শুধু ভবন নির্মাণ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত ওষুধ, পরীক্ষাগার, জরুরি বিভাগ, মাতৃ ও শিশুসেবা এবং রোগী ব্যবস্থাপনার উপযুক্ত ব্যবস্থা।
সোনাইমুড়ির ২০ শয্যা হাসপাতালসহ বিদ্যমান স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সেবার মানও উন্নত করা গেলে পুরো উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব।
উন্নয়নের স্থায়ী ভিত্তি গড়তে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। বরুড়ার তরুণ জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ দেওয়া গেলে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের পথ প্রসারিত হবে।
বরুড়ায় একটি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমান কর্মবাজারে তথ্যপ্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক কাজ, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, নির্মাণপ্রযুক্তি ও শিল্প উৎপাদনে দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সাজানো গেলে তরুণেরা চাকরির পাশাপাশি স্বনির্ভর উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মতো বৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকল্প বাস্তবায়ন, নির্মাণকাজের মান, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাকারিয়া তাহের সুমন মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি ও অপব্যয় বরদাস্ত না করার অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বাধিক চেষ্টা থাকবে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে একই অর্থে অধিক মানসম্পন্ন কাজ করা সম্ভব হয়। প্রকল্পের ব্যয়, অগ্রগতি, দরপত্র প্রক্রিয়া, নির্মাণের গুণগত মান ও সময়সীমা যথাযথভাবে তদারক করা হলে অনিয়মের ঝুঁকি কমে।
রাজনীতি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু জনগণের সমর্থন অর্জন নয়; তাঁদের সমস্যা শোনা, সমাধানের পথ খোঁজা এবং সরকারি সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বরুড়ার মানুষ সড়ক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চান। প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, নারী, প্রবীণ এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর চাহিদা উন্নয়ন পরিকল্পনায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া দরকার।
একটি জনপদের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক অংশগ্রহণ, সামাজিক সম্প্রীতি ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।
এ কে এম আবু তাহেরের রাজনৈতিক জীবন, শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বরুড়ার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর পুত্র জাকারিয়া তাহের সুমনের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান সেই ইতিহাসের সঙ্গে নতুন প্রত্যাশা যুক্ত করেছে।
একটি পরিবারের অতীত অর্জন ভবিষ্যতের সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়; বরং তা নতুন দায়িত্বের ক্ষেত্র তৈরি করে। সেই দায়িত্বের সার্থকতা নির্ভর করবে মানুষের সমস্যা সমাধান, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও জনসেবার মান বৃদ্ধির ওপর।
বরুড়ার উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা, মানসম্মত অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বরুড়ার মানুষ এমন একটি ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করছেন, যেখানে গ্রামীণ সড়কে চলাচলের দুর্ভোগ কমবে, অসুস্থ মানুষ সহজে চিকিৎসা পাবেন, তরুণেরা কারিগরি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে।
প্রায় ৩০০টি সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ, ১০১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা এবং টেকনিক্যাল কলেজ গড়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বরুড়ার উন্নয়নযাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন এবং বরুড়ার সংসদ সদস্য হিসেবে স্থানীয় মানুষের প্রতিনিধিত্ব—এই দুই ভূমিকার সমন্বয়ই তাঁর জন্য বড় সুযোগ। জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে পারলে তাঁর নেতৃত্বে বরুড়া আরও সমৃদ্ধ, যোগাযোগবান্ধব, শিক্ষিত ও স্বাস্থ্যসেবায় এগিয়ে থাকা জনপদে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পিতা এ কে এম আবু তাহেরের স্মৃতি, নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে কর্মজীবন এবং মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব সব মিলিয়ে জাকারিয়া তাহের সুমনের সামনে গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় রচনার সুযোগ রয়েছে। সেই অধ্যায়ের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে উন্নয়নের দৃশ্যমান ফলাফল, মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন এবং সরকারি সেবার মান দিয়ে।