মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জের সামাজিক সংগঠন বুবলী যুব কল্যাণ সংস্থা। প্রখর রোদে কর্মব্যস্ত পথচারী, অটোরিকশাচালক, দিনমজুর এবং দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মাঝে ঠান্ডা পানি, ওরস্যালাইন ও খাবার বিতরণ করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ব্যস্ত মোড়ে এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের মানবিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে বুবলী যুব কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বুবলী আক্তারের উদ্যোগে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
দুপুরের প্রচণ্ড রোদে যখন সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তখন ঠান্ডা পানি ও খাবার পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে যারা জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন রাস্তায় কাজ করেন, তাদের জন্য এই উদ্যোগ ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী।
একজন অটোরিকশাচালক বলেন, “এই গরমে সারাদিন গাড়ি চালানো খুব কষ্টের। কিছুক্ষণ পরপরই গলা শুকিয়ে যায়। অনেক সময় পানি কেনারও সুযোগ হয় না। আজ ঠান্ডা পানি পেয়ে সত্যিই ভালো লাগছে। এমন উদ্যোগ আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা।”
একইভাবে দায়িত্ব পালনরত এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এতে শারীরিকভাবে খুব কষ্ট হয়। বুবলী যুব কল্যাণ সংস্থার দেওয়া ঠান্ডা পানি, খাবার ও ওরস্যালাইন পেয়ে আমরা উপকৃত হয়েছি। তাদের এই মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
বুবলী যুব কল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ বলেন, “জেলা প্রশাসকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। তীব্র গরমে যারা রাস্তায় কাজ করছেন, তাদের কষ্ট আমরা অনুভব করি। এই সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতারও অংশ। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন নাগরিকদেরও এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য—এই চেতনা থেকেই আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগও মানুষের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
বুবলী যুব কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বুবলী আক্তার বলেন, “বর্তমান তাপদাহে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ। জীবিকার প্রয়োজনে তাদেরকে প্রতিদিন রাস্তায় কাজ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক, দিনমজুর এবং ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কষ্ট আমরা খুব কাছ থেকে দেখছি। তাদের মুখে সামান্য হাসি ফোটাতে পারলেই আমাদের এই উদ্যোগ সফল বলে মনে করব।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াক। মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতেও বুবলী যুব কল্যাণ সংস্থা বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে।”
কর্মসূচিতে সংগঠনের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে শ্রমজীবী মানুষ ও পথচারীদের হাতে ঠান্ডা পানি, ওরস্যালাইন ও খাবার তুলে দেন। এ সময় অনেকেই সংগঠনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, তীব্র গরমে মানুষ যখন নানা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকিতে রয়েছে, তখন বুবলী যুব কল্যাণ সংস্থার মতো সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সমাজের অন্যান্য সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তিরাও যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে দুর্ভোগে থাকা মানুষেরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে।
মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে বুবলী যুব কল্যাণ সংস্থার এই উদ্যোগ। তীব্র তাপদাহের এই সময়ে অসহায় ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনটি যে বার্তা দিয়েছে, তা সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।