নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুরের গোড়ান চটবাড়ি এলাকায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৬২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের আদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও একটি দল জোরপূর্বক ওই সম্পত্তিতে প্রবেশ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন কোম্পানিটির ভারপ্রাপ্ত সিইও মো. আব্দুর রহিম ভূঞা। একই সঙ্গে ঘটনায় শাহ আলী থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও করেছেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব অভিযোগ করেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইও।
আব্দুর রহিম ভূঞা বলেন, আলোচ্য সম্পত্তিটি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছে। কোম্পানির কাছে মালিকানার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র ও রেকর্ড রয়েছে। সম্পত্তির একটি অংশে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখান থেকে কোম্পানি ভাড়াও পেয়ে আসছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুল নামে এক ব্যক্তি ওই সম্পত্তির ওপর দাবি উত্থাপন করেন। নিজেকে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন ফারইস্টের ভারপ্রাপ্ত সিইও।
আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ
আব্দুর রহিম ভূঞার দাবি, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। হাইকোর্ট বিভাগের গত ২৯ জুলাইয়ের আদেশ অনুযায়ী, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ওপর স্থগিতাদেশ বহাল রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
তার অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গত ২০ সেপ্টেম্বর কোম্পানির নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এর কয়েকদিন পর ২৪ সেপ্টেম্বর আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সম্পত্তিতে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ওই দলটি সেখানে জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালায়।
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
ঘটনার পর ২৭ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় আরও একটি জিডি করা হয়েছে জানিয়ে আব্দুর রহিম ভূঞা বলেন, দুটি জিডি করা এবং পুলিশকে একাধিকবার অবহিত করার পরও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি।
তিনি প্রশ্ন করেন, আদালতের আদেশ কি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে? থানার দ্বারস্থ হয়েও একটি বৈধ প্রতিষ্ঠান পেশিশক্তির কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ফারইস্টের ভারপ্রাপ্ত সিইও বলেন, একটি জীবনবিমা কোম্পানির সম্পদ শুধু কোম্পানির নিজস্ব সম্পদ নয়; এর সঙ্গে পলিসিহোল্ডার, গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ জড়িত। তাই এসব সম্পদ রক্ষা করা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
ছয় দফা দাবি
ঘটনাটি নিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন আব্দুর রহিম ভূঞা। এর মধ্যে রয়েছে আদালতের আদেশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন, ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তদন্ত এবং শাহ আলী থানা পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা।
এ ছাড়া কোম্পানির বৈধ সম্পত্তি ও গ্রাহকদের অর্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করে কোম্পানির শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
আব্দুর রহিম ভূঞা বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে বিচার বা রায় চাইছি না। আমরা চাই—অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে আপনারা প্রকৃত সত্য তুলে আনুন।’ সাংবাদিকদের দলিলপত্র ও আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনা এবং পুলিশের ভূমিকা যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কারও বৈধ দাবি থাকলে সেটিও সামনে আসা উচিত। তবে প্রভাব খাটিয়ে গ্রাহকদের অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পদ দখলের চেষ্টা হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন।