ফেনীর এসপি মাহবুব আলম খানকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ

মোঃ আনজার শাহ:

ফেনী জেলার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান-কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও সচেতন মহলে আলোচনা সৃষ্টি হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই একজন কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রচার চালানো অনভিপ্রেত এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী।

গত মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাহবুব আলম খানকে ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো কিছু অভিযোগ সামনে এনে ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ পুলিশের একজন পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে মাহবুব আলম খান দীর্ঘ সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়া পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকাস্থ পুলিশ স্টাফ কলেজে অনুষ্ঠিত “৩০তম পুলিশ ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেট কোর্স”-এ অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনিক দক্ষতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে বিভিন্ন হত্যা মামলার আসামি হিসেবে উল্লেখ করে যেসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলোর অধিকাংশই তদন্তাধীন বিষয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, কোনো মামলায় নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যক্তি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সরকার পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলার অনেকগুলো এখনো তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে। ফলে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। একটি গোষ্ঠী ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। এতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতাও সৃষ্টি হতে পারে।

তারা আরও বলেন, সাংবাদিকতার মূলনীতি হলো তথ্য যাচাই, উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ উপস্থাপন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণায় এসব নীতির প্রতিফলন দেখা যায় না। ফলে গুজব, অপতথ্য ও আংশিক তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আইন নিজের গতিতে চলবে এবং যেকোনো অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হবে। তবে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।

ফেনীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন, নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার, চাঁদাবাজি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *