বরুড়ায় এসএসসিতে হতাশাজনক ফল ১২ বিদ্যালয়ে পাসের চেয়ে ফেল বেশি, শীর্ষে মহেশপুর আজিজিয়া

মোঃআনজার শাহ

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলার ৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২টি বিদ্যালয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর চেয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটিতে অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। সবচেয়ে বেশি অকৃতকার্য হয়েছে মহেশপুর আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৭ জন শিক্ষার্থী।

গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) সারা দেশের সঙ্গে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বরুড়া উপজেলায় এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, একাধিক বিদ্যালয়ে পাসের হার উদ্বেগজনকভাবে নিম্নমুখী।

যেসব বিদ্যালয়ে ফেলের সংখ্যা বেশি:
ফলাফল সিট অনুযায়ী, মহেশপুর আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫১ জন, অকৃতকার্য হয়েছে ৬৭ জন। মুগগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬ জনের মধ্যে পাস করেছে ১২ জন, ফেল করেছে ২৪ জন। বড় কৈয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২২ জনের মধ্যে পাস করেছে ৬ জন, ফেল করেছে ১৬ জন।

ভাতেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ৮ জন, অকৃতকার্য ১৭ জন। হরিপুর-আগানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ২৭ জন, ফেল ৩৮ জন। জয়নগর সিডিউল কাস্ট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৫ জন, ফেল করেছে ২৯ জন।
এ ছাড়া কৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ১০ জন, ফেল ১৫ জন। মুগুজী মাস্টার ছোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৩ জন, অকৃতকার্য ২২ জন। নলুয়া-মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ১০ জন, ফেল ১৫ জন।

নরিন্দ্রপুর-নোয়াদ্দা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৫ জন, ফেল করেছে ১৫ জন। শিলমুড়ী রাজরাজেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬২ জনের মধ্যে পাস করেছে ২৪ জন, ফেল ৩৮ জন। বরুড়া হাই স্কুলে ১৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ৬ জন, অকৃতকার্য হয়েছে ৯ জন।

উপজেলায় পাসের হার ৬১.৫০ শতাংশ:
বরুড়া উপজেলায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৮১৩ জন শিক্ষার্থী, এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৭৩০ জন। উপজেলায় এসএসসিতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৫০ শতাংশে।

দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৯৪১ জন শিক্ষার্থী, পাস করেছে ৫৬০ জন পাসের হার ৫৯ দশমিক ৫১ শতাংশ। ভোকেশনাল পরীক্ষায় ১৮২ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৮১ জন। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ভোকেশনালে পাসের হার উল্লেখ করা হয়েছে ৫৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ, যা প্রাপ্ত সংখ্যার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে মনে হচ্ছে বিষয়টি ফলাফল সিটের সঙ্গে পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।

জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৪ জন:
এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল মিলিয়ে বরুড়া উপজেলার মোট ১২৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর মধ্যে এসএসসিতে ১০৯ জন, দাখিলে ১০ জন এবং ভোকেশনালে ৫ জন।

মাধ্যমিক পরীক্ষায় বরুড়া হাজী নোয়াব আলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। দাখিল পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফল করেছে বরুড়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা, যেখান থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে পরীক্ষা
এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা বলেন, যেসব বিদ্যালয়ে পাসের চেয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলা হবে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার হলগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় ছিল এবং দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, যার ফলে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *