মোঃ আনজার শাহ:
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পাঠানপাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা। নিজের জন্মদাতা পিতাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক ছেলে। আর এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী, অর্থাৎ অভিযুক্তের নিজ মা—যা পুরো এলাকায় সৃষ্টি করেছে তীব্র শোক ও আলোড়ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই জেরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে পুত্রের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান অসহায় পিতা। ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
ঘটনার সবচেয়ে মর্মস্পর্শী দিক ছিল জানাজার সময়কার দৃশ্য। মসজিদের মাইকে যখন নিহত পিতার জানাজার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল, তখন সেই জানাজায় অংশ নেওয়ার পরিবর্তে অভিযুক্ত পুত্রকে পুলিশি পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বাড়ির আঙিনায় একদিকে পিতার নিথর দেহ, অন্যদিকে হাতকড়া পরা অবস্থায় ছেলের চলে যাওয়া—এ দৃশ্য উপস্থিত মানুষের হৃদয় বিদীর্ণ করে।
পাঠানপাড়ার বাসিন্দারা এ ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, এমন করুণ পরিণতি যেন আর কোনো পরিবারকে দেখতে না হয়। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের এক চরম উদাহরণ হিসেবে ঘটনাটিকে দেখছেন সচেতন মহল।
এদিকে, স্বামী হত্যার ঘটনায় নিজ সন্তানের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন মা। মাতৃত্বের আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে ন্যায়বিচারের স্বার্থে তার এই পদক্ষেপ এলাকাজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এটি যেমন বেদনাদায়ক, তেমনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
পুলিশ জানায়, মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে অভিযুক্ত জেলহাজতে রয়েছে এবং মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য এক সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে—পারিবারিক বিরোধ ও মূল্যবোধের অবক্ষয় যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তারই নির্মম প্রতিচ্ছবি এটি।