নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চুরির চেষ্টার অভিযোগে ইমন (২১) নামে এক যুবককে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আব্দুর রহমান জিসান (২১), ইয়াছিন আরাফাত (২৩), মো. হাসান (৩৩) ও মো. মিজানুর রহমান (২৭)।
নিহত ইমন বাকলিয়ার কালামিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। তাঁর ফুফু রেহানা বেগম বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলাটি করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে কল্পলোক আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কের মুখে একটি পান-সিগারেটের দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে ইমনকে আটক করা হয়। দোকানটি গ্রেপ্তার মো. মিজানুর রহমানের ভাই নিজাম উদ্দিনের বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ইমনকে দোকানের ভেতরে আটকে রাখার পর মিজানুর রহমান এলাকার রাতের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ও অন্য আসামিদের খবর দেন। পরে তাঁরা লাঠিসোঁটা দিয়ে ইমনকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁকে কল্পলোক মডেল মসজিদের দক্ষিণ পাশে সাজেদা ফাউন্ডেশনের কাছে একটি খালি মাঠে নিয়ে আবারও মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, পরে ইমনকে কল্পলোক আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কের মুখে একটি সেতুর নিচে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রেহানা বেগম ও তাঁর ছেলে মো. সবুজ সেখানে গিয়ে ইমনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ইমনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।