বাকলিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে দুই ভাইকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

মো. শফিকুল ইসলাম:

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সীমানাপ্রাচীর ভেঙে টিনের বেড়া দেওয়ার দাবি

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়ায় পৈতৃক জমির সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর ও দখলচেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। গত ৩০ অক্টোবর সকালে পশ্চিম বাকলিয়া ডিসি রোডসংলগ্ন ভরা পুকুরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত দুই ভাই আব্দুল ওয়াহেদ মুন্না (৩৫) ও মঈন উদ্দিন হাসান মিনহাজ (২৮) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আব্দুল জলিল (৬২) বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলাটির নম্বর ৩৯। এজাহারে মো. হুমায়ুন ফারুক সজীব ও সৈয়দ রুম্মন আজফারসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, বাকলিয়ার ডিসি রোডের ভরা পুকুরপাড় এলাকায় আব্দুল কাদেরের বাড়ির ভেতরে অবস্থিত একটি পৈতৃক জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ ওই জমির বিষয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতাবস্থা জারি রয়েছে বলে দাবি বাদীপক্ষের।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বিবাদীপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলেন এবং সেখানে টিনের বেড়া স্থাপন করে জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাদীপক্ষের পাঁচ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলেও এজাহারে দাবি করা হয়।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উল্লেখ করে সীমানাপ্রাচীর ভাঙতে বাধা দেন আব্দুল জলিলের ছেলেরা। এতে বিবাদীপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আব্দুল ওয়াহেদ মুন্না ও মঈন উদ্দিন হাসান মিনহাজকে আঘাত করা হয়। এতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার সময় নারীদের শ্লীলতাহানি করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সময় পুলিশের উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বাদীপক্ষের দাবি, জমিতে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা চলাকালে ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ছিল না। তাঁদের অভিযোগ, বিবাদীপক্ষের লোকজন জমিতে পাঁচটি টিন স্থাপনের কাজ শেষ করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর আগেই হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে দাবি তাঁদের।

এদিকে, মামলার তদন্তের অগ্রগতি, এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন প্রতিবেদক। মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জমির মালিকানা, আদালতের নিষেধাজ্ঞার প্রকৃত অবস্থা, হামলার অভিযোগ এবং পুলিশের ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময়সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ভুক্তভোগী পরিবার মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *