মোঃ লুৎফর রহমান খান:
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে বাড়ির সামনে রাখা বালুর বস্তায় থাকা বোমাসদৃশ একটি বস্তু বিস্ফোরিত হয়ে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—মৃত শাহআলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম (৬০), তার ছোট মেয়ে ইতি আক্তার এবং নাতি ফাহিম (১৪)।
আহতদের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরের একপাশে রাখা বালুর বস্তা থেকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় বাড়ির উঠানে হনুফা বেগম, তার মেয়ে ও নাতি অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়লে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে দগ্ধ হয়।
আগুনের তীব্রতা থেকে বাঁচতে তিনজনই বাড়ির পাশের পায়রা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের নদী থেকে উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তারিকুল ইসলাম জানান, আহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে শেবাচিম হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে একটি ককটেল বা বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। তারা বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিস্ফোরণের উৎস এবং কীভাবে বোমাসদৃশ বস্তুটি সেখানে এল, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
এদিকে আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।