নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত কিশোরের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী বেঞ্চ সহকারী কনক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর একই আদালতে কিশোরের জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। সেদিন তার পক্ষে অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা খানসহ একাধিক আইনজীবী জামিনের আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন। পরে আদালত অধিকতর শুনানির জন্য ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। ওই দিনও তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। জামিন আবেদনে দাবি করা হয়, ঘটনার সময় কিশোরটি গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসা ছিল। নিহত মেহেদী বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ছিলেন। হর্ন বাজানো হলেও তিনি দ্রুত সরে যেতে না পারায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফীন ইসলাম ওই কিশোরকে আদালতে হাজির করে তাকে আটক রাখার আবেদন জানান। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঘটনার পরপরই প্রাইভেট কারের চালকের আসনের পাশের দরজা খুলে কিশোরটি বের হয়ে আসে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক রাখার আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এরপর থেকে সে আটক ছিল।
এদিকে, মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলায় আকাশ মারক (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গাড়িটির চালক হিসেবে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, আকাশ মারক বেপরোয়া গতিতে প্রাইভেট কার চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।