স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ও রূপাতলী বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানা।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী হাউজিং এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কাওসার হোসেন শিপনের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান শুরু করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল। দীর্ঘ সময় কৌশলগত অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রূপাতলী হাউজিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় কাওসার হোসেন শিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
কাওসার হোসেন শিপন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি রূপাতলী বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। এ প্রভাবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘাতের ঘটনাও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার অনুসারীদের সঙ্গে সাবেক কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদের অনুসারীদের বিরোধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কাওসার হোসেন শিপনের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি বরিশালের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে কাওসার হোসেন শিপনের পারিবারিক আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাওসার হোসেন শিপন জিয়া উদ্দিন সিকদারের চাচা শ্বশুর এবং জিয়া উদ্দিন সিকদার কাওসার হোসেন শিপনের বড় ভাই মো. ফিরোজ আহমেদের মেয়ের জামাই।
এই পারিবারিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন সময়ে নানা আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর কাওসার হোসেন শিপন দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থেকেও কীভাবে নিজ এলাকায় অবস্থান করছিলেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও আলোচনা ছিল।
এদিকে, কাওসার হোসেন শিপনের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর কোনো মামলা হয়নি—এমন দাবিও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় থাকলেও পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে তা মেলে না। পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন এবং সেই মামলাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) অলক কান্তি শর্মা, ওসি আল মামুন উল ইসলাম ও ওসি তদন্ত লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কাওসার হোসেন শিপনকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তবে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর সুনির্দিষ্ট নম্বর, ধারাসমূহ এবং মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে তালাশ বিডি।