মোহাম্মদ হোসেন সুমন:
বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা ও সংহতি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোস্ট ফাউন্ডেশন এবং সিসিএনএফ-এর যৌথ উদ্যোগে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শরণার্থীদের মানবিক অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং টেকসই সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি)। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শরণার্থী সংকট একটি বৈশ্বিক মানবিক চ্যালেঞ্জ। এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনএইচসিআর কক্সবাজার অফিসের প্রধান মিস্টার মার্সেল কোলন, আরসিপির কোঅর্ডিনেটর ডেভিড, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি, উখিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর শাহেদ রোমান, ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন, নুরুল কবির ও মোজাফফর আহমেদ, পালংখালীর সাবেক প্যানেল মেয়র, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী, টেকনাফ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা সিদ্দিকী, উখিয়া ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৌলভী জাফর আলম, এনসিসি জেলার সদস্যসচিব ওমর ফারুক, অফিস সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন, বাপা কক্সবাজারের সভাপতি ও সম্পাদক, প্রথম আলোর কক্সবাজার অফিস প্রধান আব্দুল কুদ্দুস রানা, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন, উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আজাদ, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সাকি এ কাউসার এবং উখিয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রঞ্জিত দাশ।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে মূলধারার সাংবাদিক, কক্সবাজার, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, এনজিও প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়কারীগণ, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন এনজিও এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শরণার্থীদের প্রতি মানবিক সহমর্মিতা, মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে শরণার্থীদের জীবনসংগ্রাম, তাদের অধিকার ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং মানবতা, মর্যাদা ও সহমর্মিতার বার্তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শেষে বিশ্ব শরণার্থী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী জনগোষ্ঠীর প্রতি সংহতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।