মোহাম্মদ হোসেন সুমন:
বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এইচইএলপি কক্সবাজার (Hand to Embrace the Less Privileged) এক সম্পাদকীয় বার্তায় শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রতি সংহতি, সম্মান ও মানবিক দায়বদ্ধতার আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবুল কাশেম স্বাক্ষরিত বার্তায় বলা হয়, প্রতি বছরের মতো এবারও ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এই দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, নিরাপদ জীবনযাপন ও মানবিক মর্যাদা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
বার্তায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলা হয়, বিশেষ করে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় ও সহায়তা প্রদান করে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকট স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত নানা চাপ সৃষ্টি করছে, যা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এইচইএলপি কক্সবাজার মনে করে, শরণার্থী সংকটের টেকসই সমাধান শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জীবিকা উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা এবং সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সম্পাদকীয়তে আরও উল্লেখ করা হয়, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি টেকসই সমাধান, নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন এবং শরণার্থীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এইচইএলপি কক্সবাজার সকল উন্নয়ন সহযোগী, মানবিক সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো মানুষ নিপীড়ন, সহিংসতা বা বৈষম্যের কারণে নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে না এবং বাস্তুচ্যুত মানুষ মর্যাদা, নিরাপত্তা ও আশার আলো নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ পাবে।
সংস্থাটির মতে, “মানবতার প্রকৃত বিজয় তখনই নিশ্চিত হবে, যখন প্রতিটি শরণার্থী নিজেকে নিরাপদ, সম্মানিত এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী মনে করবে।”
স্লোগান:
“শরণার্থীর মর্যাদা রক্ষায় এগিয়ে আসি, মানবতার বন্ধনে বিশ্ব গড়ে তুলি।”
— মোঃ আবুল কাশেম
নির্বাহী পরিচালক
এইচইএলপি কক্সবাজার (Hand to Embrace the Less Privileged)
কক্সবাজার, বাংলাদেশ