মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ অপহরণ এবং পরবর্তী ঘটনার কারণে ব্যবসায়ী নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড এবং ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি এম. সোলায়মান বলেন, “এ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সোহাগের মতো একজন প্রথম সারির ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি মুক্তি লাভের পর কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার তাকে হুমকি দিয়েছে। পরে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।”
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতারা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং কঠোর বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। তারা মনে করেন, একজন ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হলেও বিচার না হলে বাংলাদেশের অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্রের সব ব্যবসায়ীরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন।
মডেল গ্রুপের কর্ণধার মাসুদুজ্জামান বলেন, “ব্যবসায়ী সোহাগ একজন প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা এবং সমাজসেবক। তার অবদান সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে আছে। এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন। সকল অপরাধীদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে নজির স্থাপন করতে হবে। তা না হলে ব্যবসায়ীরা নিজস্বভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।”
উল্লেখ, গত ১ জুন ২০২৫ ব্যবসায়ী সোহাগকে অপহরণ করা হয়। পরের দিন, ২ জুন, তিনি অপহরণ অবস্থা থেকে মুক্তি পান। ৩ জুন তিনি মামলাও দায়ের করেন। পরবর্তীতে আসামীদের গ্রেফতার করা হয়। তবে ৩০ ডিসেম্বর আসামীরা জামিন পান। জামিন লাভের পর তারা আবারও ব্যবসায়ী সোহাগকে হুমকি দেয়।
এরপর, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ সোহাগ নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে পুলিশ দুই অপরাধীকে গ্রেফতার করে। গতকাল পুলিশ তাদের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর না করে তাদেরকে জেলগেইটে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেন।
ব্যবসায়ী নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসন এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করবেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।