স্টাফ রিপোর্টার :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার একতারপুর এলাকায় সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি ও চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হুমায়ূন রশিদ মুসা (৪৭) এই অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চোরাচালান ও নানা অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এতে এলাকার যুবসমাজ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ,
অভিযোগে দুজনকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে,
১.মোঃ বাহাউদ্দিন মিয়া (৪৭), পিতা: মোঃ হানিফ মিয়া।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় ট্রেনযোগে নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনে সরাসরি জড়িত।
২,মোঃ রাজিব মিয়া (৩২), পিতা: মোঃ ফারুক মিয়া, একতারপুর, বিজয়নগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
তার বিরুদ্ধে অটোরিকশা, সিএনজি ট্যাক্সি ও মোটরসাইকেল চুরি এবং নিষিদ্ধ পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য বিক্রয় ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারী জানান, এই দুজনের নেতৃত্বে আরও ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি নিয়ে একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা এলাকায় নিয়মিতভাবে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এলাকায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে,
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সিন্ডিকেটের অপতৎপরতায় এলাকার যুবসমাজ মাদকের ছোবলে ক্রমশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে। এর পাশাপাশি প্রবাসীদের পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত হামলা, হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
যাদের কাছে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে,
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে,
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), বিজয়নগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বিজয়নগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর।
অভিযোগকারী হুমায়ূন রশিদ মুসা বলেন, “এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, তা এলাকাবাসী গভীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছেন।
অপর দিকে জানা গেছে,২০ জুন দুপুরে অভিযোক্তদের নিষিদ্ধ আস্হানায় পলিশের বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। তদন্তে জানা গেছে ওই এলাকায় কয়েকটি গ্রুপের এহেন অনৈতিক কাজে লিপ্ত রয়েছে।