Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
ভুয়া স্বাক্ষর ও ব্যাংক জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন; শামসুন্নাহার পপি ও পাতা রানি কর্মকারসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

ভুয়া স্বাক্ষর ও ব্যাংক জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন; শামসুন্নাহার পপি ও পাতা রানি কর্মকারসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: 
কফি হাউসের নারী উদ্যোক্তা নাসরিন আক্তার রিয়াকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র, ভুয়া স্বাক্ষর তৈরি করে ব্যাংক ও বিভিন্ন সমিতি থেকে কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতিবাদ করায় হত্যা ও লাশ গুমের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার, অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং নাসরিন আক্তার রিয়া ও তার পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা নাসরিন আক্তার রিয়া ও তার বড় বোন রেহেনা বেগম বক্তব্য দেন।
মানববন্ধনে নাসরিন আক্তার রিয়া অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও সঞ্চয়ের অর্থ দিয়ে তিনি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। নিজের কফি হাউসের প্রধান কর্মচারী সামসুন নাহার পপিকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত বিশ্বস্ত মনে করতেন এবং বোনের মতো বিশ্বাস করতেন। কিন্তু তার অভিযোগ, সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে পপি ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে তার ব্যাংক হিসাব, চেক, সঞ্চয় ও ব্যবসার অর্থের ওপর হস্তক্ষেপ করেন।
তার অভিযোগ, তার স্বাক্ষর জাল বা ভুয়া স্বাক্ষর তৈরি করে একাধিক ব্যাংক হিসাব ও চেক ব্যবহার করে দফায় দফায় টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তার সঞ্চয়ের অর্থও আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ভুয়া স্বাক্ষরে ব্যাংকের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ
নাসরিন আক্তার রিয়া জানান, ভবিষ্যৎ জীবন ও ব্যবসার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি ‘সোনার তরী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি লিঃ’ (রেজিঃ নং-০০১৪২)-এ দীর্ঘ তিন বছর ধরে প্রায় ২১ লাখ টাকা সঞ্চয় করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে সামসুন নাহার পপি ও তার সহযোগীরা তার ভুয়া স্বাক্ষর তৈরি করে বিভিন্ন কৌশলে ব্যাংক হিসাব ও চেক ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে যমুনা ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক (NRBC) ও আইএফআইসি ব্যাংক (IFIC)-এর হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাসরিনের অভিযোগ, তিনি নিজে ব্যাংকে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও তার নামে থাকা হিসাব ও চেক ব্যবহার করে কীভাবে একাধিকবার অর্থ উত্তোলন করা হলো, তা তদন্ত করে দেখা জরুরি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রকৃত হিসাবধারীর উপস্থিতি ছাড়া এবং স্বাক্ষরের যথাযথ সত্যতা যাচাই না করে যদি কোনো অর্থ উত্তোলন হয়ে থাকে, তাহলে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
নাসরিন আক্তার রিয়ার অভিযোগ, শুধু ব্যাংক হিসাব নয়, ‘প্রকাস মাইক্রোক্রেডিট রেগুলারটি’ ও ‘নতুন কুড়ি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি’-এর নাম ভাঙিয়েও অর্থ লেনদেন করা হয়েছে।
এ ছাড়া কফি হাউসে জমানো টাকা ও বিভিন্ন সঞ্চয়ের অর্থসহ সব মিলিয়ে ১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ব্যবসার আয় এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয় করা অর্থ হারিয়ে তিনি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি
মানববন্ধনের ব্যানারে ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মূলহোতা হিসেবে সামসুন নাহার পপি ও পাতা রানী কর্মকারসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
অভিযোগে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—রেহেনা আক্তার, ইতি, সালমা আক্তার ও মো. লিমন মিয়া। ব্যানারে আরও কয়েকজনের ছবি ও নাম প্রদর্শন করা হয়। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিবাদ করায় মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ
নাসরিন আক্তার রিয়া বলেন, ব্যাংক ও সমিতির অর্থের কথিত জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সামসুন নাহার পপির কাছে টাকা ফেরত চান এবং ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পপি ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া বিষয়টি পুলিশ, প্রশাসন কিংবা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে জানালে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাসরিন।
তিনি বলেন, এসব হুমকির কারণে তিনি নিজের জীবন নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
‘বোনের মতো বিশ্বাস করেছিলাম, আজ সব শেষ’
মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাসরিন আক্তার রিয়া বলেন,
“আমার নিজের কফি হাউসের কর্মচারীকে বোনের মতো বিশ্বাস করেছিলাম। আজ সে-ই ভুয়া সাইন বানিয়ে একাধিক ব্যাংক ও সমিতি থেকে আমার ১ কোটি টাকার বেশি লুট করে নিয়ে আমাকে পথে বসিয়ে দিল। এখন টাকা ফেরত চাইলে আমাকে মেরে লাশ গুম করার হুমকি দিচ্ছে। আমার ব্যবসা শেষ, আমি এখন কোথায় যাব?”
তিনি বলেন, নিজের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা ও ভবিষ্যতের জন্য জমানো অর্থ হারিয়ে তিনি আজ অসহায় হয়ে পড়েছেন। তাই তিনি কোনো পক্ষপাতমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনের মাধ্যমে বিচার চান।
বড় বোন রেহেনা বেগমের বক্তব্য
মানববন্ধনে নাসরিন আক্তার রিয়ার বড় বোন রেহেনা বেগম বলেন, তার বোন দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে নিজের ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন। কিন্তু তার অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে তার অর্থ ও সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়ে থাকলে এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
একই সঙ্গে নাসরিন আক্তার রিয়া ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
ব্যাংকগুলোর ভূমিকা তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগীর দাবি, তার ব্যাংক হিসাব ও চেকের মাধ্যমে যদি সত্যিই ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন করা হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চেক যাচাই, স্বাক্ষর যাচাই, লেনদেন অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ব্যাংক হিসাবের প্রতিটি লেনদেনের তারিখ, পরিমাণ, চেক, স্বাক্ষর, অর্থ উত্তোলনকারী ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় নথি তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।
নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যাংক হিসাব নম্বরগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত নথি অনুযায়ী যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।
থানায় অভিযোগ ও বিভিন্ন দপ্তরে আবেদনের দাবি
নাসরিন আক্তার রিয়া জানান, নিজের নিরাপত্তা এবং কথিত জালিয়াতির বিচার চেয়ে তিনি কালিয়াকৈর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ ছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটি (BHRPS) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কাছে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তার দাবি, ব্যাংক হিসাব, চেক, স্বাক্ষর, সমিতির হিসাবপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে তদন্ত করা হলে কারা এই অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তা স্পষ্ট হবে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও অর্থ উদ্ধারের দাবি
মানববন্ধন থেকে নাসরিন আক্তার রিয়া ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়—অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে; ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে; আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং নাসরিন আক্তার রিয়া ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে সোনার তরী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি লিঃ, প্রকাস মাইক্রোক্রেডিট রেগুলারটি এবং নতুন কুড়ি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি-এর মাধ্যমে কথিত অর্থ লেনদেন ও আত্মসাতের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তার পক্ষ থেকে উত্থাপিত কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ, ব্যাংকিং জালিয়াতি ও জীবননাশের হুমকির মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাই শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে ব্যাংক নথি, চেক, স্বাক্ষর, লেনদেনের তথ্য, সমিতির হিসাবপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।
নাসরিন আক্তার রিয়ার দাবি, তিনি তার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত চান এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চান। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সামসুন নাহার পপি, পাতা রানী কর্মকারসহ অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *