মধ্যপ্রাচ্যে একযোগে ৪ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, একাধিক সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতের চারটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এসব হামলায় মার্কিন বাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) আল জাজিরা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নুর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সমন্বিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেছে। ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এই প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির এক সামরিক কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হয়। এরপর পরিকল্পিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে হামলার ফলে একাধিক জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে আগুন ধরে যায়। একই সঙ্গে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ সামুদ্রিক নজরদারি বিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি মার্কিন সামরিক ড্রোনের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এ ছাড়া কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাঙ্ক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। পাশাপাশি আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির একটি কৌশলগত এফপিএস (FPS) রাডার ব্যবস্থাও ধ্বংস হয়েছে বলে তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ থামানোর অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। ওই জাহাজ দুটির বিরুদ্ধে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রাখা, অবৈধভাবে চলাচল এবং নৌ-নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনে ইরান। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, এটি তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের অংশ এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানের বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে হামলার পর বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে আবারও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর ঘোষণা দেয়। জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ‘শত্রুপক্ষের ছোড়া লক্ষ্যবস্তু’ প্রতিহত করতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। প্রতিরক্ষা অভিযানের সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলেও জানানো হয়। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ইরানের দাবি করা ক্ষয়ক্ষতি বা হামলার বিস্তারিত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *