মো. আব্দুল গফুর সিকদার:
ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভোলার মনপুরায় সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এ শুমারির মাধ্যমে দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভূমিহীন এবং প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছেন এমন পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মনপুরা উপজেলা হলরুমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনপুরা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ মো. কামাল উদ্দিন এবং সহসভাপতি আব্দুল খালেক সেলিম মোল্লা। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. গালিব। প্রশিক্ষণে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়ই ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, তথ্যের নির্ভুলতা যাচাই এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। শুমারির তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাতে বাদ না পড়ে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এ শুমারির মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে ভূমিহীন, প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা এবং অন্যান্য কারণে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোর অবস্থা চিহ্নিত করতে নির্ভুল তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করা গেলে সরকারি সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন সহজ হতে পারে। এতে সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য পরিবারগুলোর অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা এবং সরকারি সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে শুমারিতে তথ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিত হওয়া নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত যোগ্যতা, নীতিমালা ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবেন—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। তাঁদের দক্ষতা ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের ওপর শুমারির সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।