মসজিদের সামনে ইট-বালু ও রড রেখে মুসল্লিদের ভোগান্তির অভিযোগ

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি মসজিদের সামনে ইটের খোয়া, ইট ভাঙার মেশিন, বালু ও সিমেন্ট ফেলে রাখায় মুসল্লিদের চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মসজিদের এক সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে মসজিদের জায়গা দখল করে ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগও করেছেন এলাকাবাসী।

শনিবার (৭ মার্চ) সিদ্ধিরগঞ্জের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোদনাইল মন্ডলপাড়া এলাকায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফাতেমা (রাঃ) জামে মসজিদের প্রধান প্রবেশপথের সামনের অংশজুড়ে ইটের খোয়া, বালুর স্তুপ এবং ইট ভাঙার মেশিন রাখা হয়েছে। এতে মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিদের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে আসা মুসল্লিদের এসব নির্মাণসামগ্রীর কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জুমার নামাজ ও মাগরিবের সময় মুসল্লিদের ভিড় বেশি থাকায় চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নূর দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের সামনের জায়গা ব্যবহার করে সেখানে নিজের ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ইটের খোয়া, ইট ভাঙার মেশিন ও বালু এনে মসজিদের সামনে ফেলে রেখেছেন। এতে মসজিদের পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি মুসল্লিদের চলাচলেও চরম বিঘ্ন ঘটছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, শুধু মসজিদের সামনেই নয়, আশপাশের সড়কেও নির্মাণসামগ্রী রাখার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সিটি কর্পোরেশনের রাস্তার ওপর রাখা ইটের খোয়ার ওপর নিয়মিত পানি ঢেলে তা ভেঙে নিচ্ছেন। এতে রাস্তার অংশ কাদামাটিতে পরিণত হয়ে যায় এবং পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি এতে সড়কেরও ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, মসজিদের সামনে এভাবে নির্মাণসামগ্রী রাখার ফলে বিশেষ করে বয়স্ক মুসল্লি ও শিশুদের মসজিদে যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় নামাজের সময় মানুষকে খুব সতর্ক হয়ে চলাচল করতে হয়, নতুবা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ নূরের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, নিজের ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণের জন্য ইটের খোয়া ভেঙে রাখার কারণে এসব সামগ্রী সেখানে রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের অসুবিধার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমি খুব দ্রুতই এগুলো সরিয়ে ফেলবো।”

তবে এলাকাবাসীর দাবি, এ ধরনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা মনে করেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে মসজিদের পরিবেশ ও এলাকার চলাচল আরও বিঘ্নিত হতে পারে।

এ কারণে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের কাছে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *