মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে শুরু হচ্ছে এ কে এম আবু তাহের স্মৃতি আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট: কায়সার আলম সেলিম

 

মোঃ আনজার শাহ:

কুমিল্লার প্রত্যন্ত জনপদের সবুজ মাঠে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাকে সামনে আনতে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে দূরে রাখার প্রত্যয়ে শুরু হচ্ছে এ কে এম আবু তাহের স্মৃতি ফাউন্ডেশন ফুটবল টুর্নামেন্ট। আগামী বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বরুড়া উপজেলার কাদবা-তলাগ্রাম তারিণী চরণ লাহা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে এ আসরের পর্দা উঠবে। আয়োজক এ কে এম আবু তাহের ফাউন্ডেশন।
ইতিমধ্যে টুর্নামেন্টের ড্র সম্পন্ন হয়েছে। কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দল নিয়ে জমে উঠতে যাচ্ছে এ ফুটবল উৎসব। আয়োজকদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে নতুন খেলোয়াড় বাছাইয়ের সুযোগ তৈরি করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
আবু তাহের পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন
ড্র অনুষ্ঠানে বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম বলেন, খেলাধুলাকে উৎসাহিত করে সমাজকে মাদকমুক্ত রাখাই আবু তাহের পরিবারের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য। অংশগ্রহণকারী সব দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এবং আবু তাহের পরিবারের পক্ষ থেকে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বরুড়ার সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আবু তাহের জীবদ্দশা থেকেই ক্রীড়া ও তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ জুগিয়ে গেছেন। তাঁর পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়াঙ্গনের পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রেখেছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রায় এক দশক ধরে কুমিল্লা জেলা প্রিমিয়ার ডিভিশন ফুটবল লিগ পরিচালনা করা হয়েছে। এবার সেই ধারাকে আরও বিস্তৃত করে আন্তঃউপজেলা পর্যায়ে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
১৯ প্রান্তের লড়াই
টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে বরুড়া, আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, চান্দিনা, দেবীদ্বার, মুরাদনগর, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, চৌদ্দগ্রাম, দাউদকান্দি, মেঘনা, হোমনা, তিতাস, বাঙ্গরা, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও লালমাই উপজেলা এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দল।
নকআউট নয়, লিগ পদ্ধতিতে খেলা
এবারের আসরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য নকআউটের বদলে লিগ পদ্ধতি। দলগুলোকে চারটি গ্রুপে ভাগ করে খেলা হবে। ফলে এক ম্যাচে হারলেই কাউকে বিদায় নিতে হবে না; প্রতিটি দল একাধিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।
লিগ পদ্ধতি বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে কায়সার আলম সেলিম বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, উপজেলার খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সুযোগ পান।”
তাঁর মতে, একাধিক ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকলে খেলোয়াড়দের প্রকৃত সামর্থ্য ফুটে উঠবে। এতে কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও প্রশিক্ষকদের পক্ষেও জেলা পর্যায়ের দলের জন্য সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় বাছাই করা সহজ হবে।
নিবন্ধনে কড়াকড়ি
টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ২০ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করাতে পারবে। নিবন্ধনের সময় খেলোয়াড়দের ভোটার পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করা হবে। তথ্যে কোনো ত্রুটি বা অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পাবেন না।
এ ছাড়া প্রতিটি দলে উপজেলার বাইরের সর্বোচ্চ চারজন খেলোয়াড় রাখা যাবে। তাঁদের ম্যাচ শুরুর এক ঘণ্টা আগে নিবন্ধন করতে হবে। একই সময়ে মাঠে উপজেলার বাইরের চারজনের বেশি খেলোয়াড় থাকতে পারবেন না।
ড্র অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি ও জেলা ক্রীড়া অফিসার উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের একজন প্রতিনিধিরও উপস্থিত থাকার কথা জানানো হয়েছে।
মাঠ প্রাণবন্ত হলে তরুণেরা আলোর পথে
কায়সার আলম সেলিম বলেন, তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করতে এমন আয়োজনের বিকল্প নেই। খেলার মাঠ যত প্রাণবন্ত হবে, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তত বাড়বে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ টুর্নামেন্ট কেবল একটি প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং কুমিল্লার প্রত্যন্ত জনপদের মাঠে লুকিয়ে থাকা নতুন ফুটবল প্রতিভাদের সামনে আসার কার্যকর মঞ্চ হয়ে উঠবে। ফুটবলের সৌন্দর্য, প্রতিযোগিতার উত্তেজনা আর তরুণদের প্রাণের উচ্ছ্বাসে কুমিল্লার মাঠগুলো আবারও মুখর হয়ে উঠবে, এমনই আশা এখন ক্রীড়াপ্রেমী ও আয়োজকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *