মিরপুরে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান, একদিনে প্রায় ৩০০ মামলা

ইসলাম উদ্দিন তালুকদার:

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক মিরপুর বিভাগ। একদিনের এই অভিযানে প্রায় ৩০০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (৪ মে ২০২৬) দিনব্যাপী মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মূলত লাইসেন্সবিহীন যানবাহন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অবৈধ পার্কিং, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং অনুমোদনহীন সিএনজি ও প্রাইভেট যান চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন ট্রাফিক মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মোঃ সেলিম রেজা এবং ট্রাফিক দারুসসালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শরীফ আহমেদ।

অভিযান শেষে ট্রাফিক মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ সেলিম রেজা বলেন,
“ডিএমপি ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের উদ্যোগে মিরপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০টি মামলা করা হয়েছে। মিরপুরে সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে।”

অভিযান চলাকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান আসাদ, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আল আমিন, সার্জেন্ট (প্রশাসন) আমজাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সার্জেন্ট ও কনস্টেবলরা।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর, গাবতলী, শ্যামলী, আব্দুল্লাহপুর, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, সদরঘাট, কামরাঙ্গীরচর ও গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি অবৈধ সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহন রাজধানীতে চলাচলের সুযোগ করে দিতে কিছু ট্রাফিক সদস্যের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতা করে থাকে।

এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, ঢাকার বিভিন্ন জেলার—বিশেষ করে ঢাকা জেলা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর—থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ম ভঙ্গ করে রাজধানীতে চলাচল করছে। একইভাবে ‘প্রাইভেট’ পরিচয়ে হাজারো ভাড়ায় চালিত সিএনজি নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, কিছু ক্ষেত্রে ঢাকার নিবন্ধিত ভাড়ায় চালিত সিএনজিকে রং পরিবর্তন করে প্রাইভেট গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে নিয়মিত নজরদারির বাইরে থেকে এসব যান চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র নির্দিষ্ট মাসিক অর্থের বিনিময়ে এসব অবৈধ যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছে। একইভাবে ‘বেঙ্গল গ্রুপ’-এর নাম ব্যবহার করে একাধিক গাড়িতে একই নম্বর ব্যবহার করার ঘটনাও সামনে এসেছে বলে জানা যায়।

ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় চলাচলকারী ব্যানারভিত্তিক পরিবহনগুলোর অনেকেরই রুট পারমিট ও কাগজপত্র সম্পূর্ণ না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিবহন মালিক বলেন,
“বাস্তবতা হলো, ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ না করে রাজধানীতে অনেক যানবাহন চালানো কঠিন। মাঝেমধ্যে অভিযান হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান পরিচালিত হলেও তা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে যথেষ্ট নয় বলে সাধারণ চালক ও যাত্রীদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে।

সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, ট্রাফিক ব্যবস্থার এই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, যাতে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *