ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতে ই-২০ (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত) পেট্রোল চালুর বিরোধিতা আরও জোরালো করেছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, দুই লাখের বেশি মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত আবেদনপত্র নিয়ে আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের উদ্দেশ্যে মিছিল করবেন।
কেজরিওয়ালের দাবি, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ই-২০ পেট্রোল কার্যকর করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, যদি এই জ্বালানি সম্পূর্ণ নিরাপদ হতো, তাহলে সরকার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনায় বসতে আপত্তি করত না।
তিনি সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—পেট্রোল পাম্পে সাধারণ পেট্রোল (ই-০) এবং ই-২০—উভয় ধরনের জ্বালানি রাখার ব্যবস্থা, ভোক্তাদের পছন্দমতো জ্বালানি কেনার সুযোগ নিশ্চিত করা, সাধারণ পেট্রোলের দাম কমানো এবং ইথানলের মূল্য হ্রাস করা।
কেজরিওয়াল আরও বলেন, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে জ্বালানি নীতি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তার দাবি, অনলাইন ও অফলাইনে পরিচালিত স্বাক্ষর অভিযানে ইতোমধ্যে দুই লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন।
অন্যদিকে দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা কেজরিওয়ালের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ই-২০ পেট্রোলের কারণে গাড়ির ক্ষতি হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে কেজরিওয়ালকে প্রমাণ দিতে হবে। বিজেপির মতে, সরকারের ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচি জ্বালানি আমদানি কমানো, পরিবেশ দূষণ হ্রাস এবং দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।
ই-২০ পেট্রোল নিয়ে ভারতে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে বিরোধী দল ভোক্তাদের জন্য বিকল্প রাখার দাবি তুলছে, অন্যদিকে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল এই নীতিকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনের আন্দোলন এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া এই ইস্যুকে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় করে তুলতে পারে।