স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল:
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কেশব মাইঝাইল এলাকায় জমি ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীর পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় নারী, তার মা, বাবা ও বোন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টা, শ্লীলতাহানি, ছিনতাই ও চুরির অভিযোগ এনে টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতে একটি নালিশ দায়ের করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সি.আর. মামলা নং- ৯৬২/২০২৬ এর বাদী মোছা. আখি (৩৮), স্বামী মো. মারুফ হোসেন, সাং- কেশব মাইঝাইল, টাঙ্গাইল। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আসামিদের সঙ্গে তাদের পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ৮ মে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়ির পেছনে বাঁশের বেড়া নির্মাণের সময় অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়।
নালিশে উল্লেখ করা হয়, ১নং আসামি মো. কামরুল ইসলাম বেড়া নির্মাণে বাধা দেন। এ সময় বাদীর মা সূর্যবানু কারণ জানতে চাইলে আসামিরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ১নং আসামি ধারালো রামদা দিয়ে বাদীর মায়ের মাথায় কোপ দিলে গুরুতর জখম হয় এবং তার মাথায় প্রায় ১০টি সেলাই দিতে হয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ২নং আসামি আবুল কালাম আজাদ ধারালো দা দিয়ে বাদীর মাথায় আঘাত করতে গেলে আত্মরক্ষার্থে হাত বাড়িয়ে দিলে তার ডান হাতের তালুতে গভীর ক্ষত হয় এবং সেখানে ৬টি সেলাই দিতে হয়।
এ সুযোগে ৩নং আসামি মো. আহাদ মিয়া বাদীর গলায় থাকা প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের এক ভরি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় ৬নং আসামি হামিদা বাদীর ব্যবহৃত প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের Redmi Note 11 মোবাইল ফোন নিয়ে যায় বলেও নালিশে দাবি করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, পরবর্তীতে তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় তার বোন নাসিমা এগিয়ে এলে ৪ ও ৫নং আসামি তাকে মারধর এবং শ্লীলতাহানি করে। বাদীর চিৎকারে তার বাবা ঘটনাস্থলে এলে তাকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে গুরুতর আহত সূর্যবানু এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বাদী, তার বাবা ও বোনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নালিশে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় ও পরে আসামিরা পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয় এবং “লাশ গুম করে ফেলার” ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
বাদী আদালতকে জানান, ঘটনার পর তিনি চিকিৎসাধীন থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট থানা মামলা গ্রহণ না করায় প্রথমে স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে ব্যর্থ হয়ে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আদালতে এ নালিশ দায়ের করেন।
মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের কাছে বাদী সংশ্লিষ্ট থানাকে মামলা রুজু করে তদন্তপূর্বক অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা চেয়েছেন।
এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।