আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়া ও ইউক্রেনকে যুদ্ধবিরতির জন্য তিন দফা প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। এ প্রস্তাবের মাধ্যমে চার বছর ধরে চলমান সংঘাত নিরসনে ভারত প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় এগিয়ে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ১৮ বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ইউক্রেন সফর করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। সফরকালে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। পরে একই বিষয়ে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়।
ভারতের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির তিনটি দফা হলো—জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ করা, কৃষ্ণসাগরের বন্দর দিয়ে শস্য ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা বন্ধ করা।
ভারতের এই প্রস্তাবে যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয় একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অবকাঠামোর ওপর হামলা, পণ্য সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য সচল রাখার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আগের প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে পার্থক্য
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে মস্কো ও কিয়েভকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে মিশর, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভারতের প্রস্তাবে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মিশর ও তুরস্কের উদ্যোগে মূলত বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা বন্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্যের সরবরাহ অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব মূলত জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের বিষয়কে কেন্দ্র করে ছিল।
ভারতের তিন দফা প্রস্তাবে এসব বিষয়কে একত্রিত করার পাশাপাশি কৃষ্ণসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি খাদ্য, জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।