স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:
এসি অলক, ওসি মামুন ও ওসি তদন্ত লুৎফুরের নেতৃত্বে কৌশলী অভিযানে রাত সাড়ে ৩টায় পুলিশের সাফল্য।
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী হাউজিং এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তারে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে অভিযান শুরু করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল। দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখার পর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় অভিযানকারী দল।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) অলক কান্তি শর্মা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম এবং তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) লুৎফুর রহমান।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে কৌশলগতভাবে অবস্থান নেয় অভিযানকারী দল। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর রূপাতলী হাউজিং এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসায় অভিযান চালিয়ে কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি তালাশ বিডিকে নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম।
কাওসার হোসেন শিপন রূপাতলী বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি এবং বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাওসার হোসেন শিপনের ব্যাপক প্রভাব ছিল বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। এ নিয়ে তার অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদের অনুসারীদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিরোধ ও সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় কাওসার হোসেন শিপনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলেও পুলিশ দাবি করেছে।
পুলিশের বক্তব্য
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী হাউজিং এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসি অলক কান্তি শর্মা, ওসি আল মামুন উল ইসলাম ও ওসি তদন্ত লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধৈর্য ও কৌশল অবলম্বন করে অভিযান পরিচালনা করেন। একপর্যায়ে অভিযানকারী দল কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত কাওসার হোসেন শিপনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।