মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার প্রিন্সিপাল 100 শপিং মলে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মোবাইল ফোন চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে সোনারগাঁও থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা পেশাদার চোর চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে ১২ জুন সকাল ১০টা ১০ মিনিটের মধ্যে সোনারগাঁও থানাধীন প্রিন্সিপাল 100 শপিং মলের পঞ্চম তলায় অবস্থিত দোকান নং-৪৫, ‘মোবাইলি বাই আমিনুল টেলিকম’ নামের একটি মোবাইল ফোনের দোকানের তালা কেটে দুর্বৃত্তরা নগদ ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের মোট ১৪৪টি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।
ঘটনার পর দোকানের মালিক আমিনুল (৪২) সোনারগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে এ ঘটনায় একটি চুরির মামলা রুজু হয়। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) দীপংকর ঘোষের তদারকিতে এবং সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম সারোয়ারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন— মো. বাবু ওরফে রবি ওরফে রনি (৪০), মো. ইছহাক ওরফে সাগর (৪২), মো. কামাল (৪০), মো. আলমগীর (৪৫), মো. জামাল (৩৮), আলাউদ্দিন (৪৫), মো. সুমন (৪১), মো. রুবেল (২৩) এবং আলামিন ওরফে বাম্বু আলামিন (২৩)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. বাবু ওরফে রবি ওরফে রনির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় আটটি চুরির মামলা রয়েছে। মো. ইছহাক ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে রয়েছে তিনটি চুরির মামলা। এছাড়া মো. আলমগীর ও আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় পৃথক চুরির মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা একটি সংঘবদ্ধ ও পেশাদার চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে পুলিশের কাছে তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির অন্যান্য সদস্য এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া ১৪৪টি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সোনারগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।