শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে ছাড় নয়: জিকে গউছ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার কিংবা অনৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও সংসদ সদস্য জিকে গউছ। তিনি বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ও মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবের ভিত্তিতে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জিকে গউছ বলেন, নবীনবরণ শুধু ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়ার বিষয় নয়, বরং এটি নতুন জীবনের দায়িত্ব ও সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করার একটি উপলক্ষ। যারা স্কুলজীবন শেষ করে কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, তারা সৌভাগ্যবান। নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এই প্রতিষ্ঠানে জায়গা করে নেওয়ার পর এখন তাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভালো ফলাফল অর্জন এবং নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, শিক্ষাজীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা আজকের অবস্থানে এসেছে। সামনের কয়েকটি বছর সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারলে তারা ভবিষ্যতে সমাজের দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। অন্যদিকে অবহেলা ও অমনোযোগিতার কারণে এই সুযোগ নষ্ট করলে তার ক্ষতি শিক্ষার্থীদেরই বহন করতে হবে।

বক্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বৃন্দাবন সরকারি কলেজের একটি ঘটনার উদাহরণ দেন। জিকে গউছ বলেন, ওই কলেজের অধ্যক্ষ তাঁকে জানিয়েছেন, এমন কিছু শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা এক দিনও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়নি, এমনকি পরীক্ষাতেও অংশ নেয়নি। কিন্তু তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছে। নিয়মিত পড়াশোনা ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ করা হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, এরপর কিছু রাজনৈতিক নেতা অধ্যক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ওই শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ করা এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অথচ অভিভাবকেরা অনেক কষ্ট করে সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন নিয়ে কলেজে পাঠান। সেখানে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে হুইপ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে কেউ যদি অধ্যক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে তিনি যেন প্রচলিত আইনের আশ্রয় নেন। কে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত, তা বিবেচ্য নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে জড়িত কাউকেই সরকার ছাড় দেবে না।

হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল মজীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস বখ্ত চৌধুরী জালালসহ অন্যান্য অতিথিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *