সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে অস্ত্র রাখায় সাবেক ব্রিটিশ সেনার ৪ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে অস্ত্র ও বিস্ফোরক রাখার দায়ে যুক্তরাজ্যের সাবেক সেনা সদস্য মার্ক ব্রডহার্স্টকে প্রায় চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ইংল্যান্ডের শেফিল্ড ক্রাউন কোর্টে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

২৮ বছর বয়সী ব্রডহার্স্ট একসময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে রাঁধুনি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই বছর আগে পুলিশের তদন্তে তাঁর কিছু অনলাইন বার্তা পাওয়া যায়। এসব বার্তায় বর্ণবাদী মনোভাব প্রকাশের পাশাপাশি ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর কাছে নিজের তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রডহার্স্টকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল ছুরি, ক্রসবো, কালো বারুদ, গুলি, এয়ার পিস্তল এবং পুলিশের ভাষায়, নিজের তৈরি একটি অস্থায়ী কামান।

ব্রডহার্স্ট অনলাইনে আরও তিন ব্যক্তির সঙ্গে একটি আলোচনা গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন। গত বছর ওই তিনজনকে মসজিদ বা উপাসনালয়ে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার দায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের ধারণা ছিল, সামনে একটি ‘জাতিগত যুদ্ধ’ শুরু হতে যাচ্ছে। সেই যুদ্ধের অংশ হিসেবে তাঁরা হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।

যুক্তরাজ্যের সরকারি কৌঁসুলি সংস্থা ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের বিশেষ অপরাধ বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক ফার্গুসন বলেন, ব্রডহার্স্টের মধ্যে সহিংসতার প্রতি স্পষ্ট আগ্রহ ছিল। তাঁর অস্ত্র তৈরির আগ্রহ নিরীহ মানুষের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারত।

দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশি কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট জেমস ডানকারলি বলেন, ব্রডহার্স্টের মধ্যে উগ্র ডানপন্থি মানসিকতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি সক্রিয়ভাবে বিস্ফোরক তৈরির উপকরণও সংগ্রহ করছিলেন।

ব্রডহার্স্ট আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ স্বীকার করেন। তবে এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল—এ অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। বিচারক অবশ্য তাঁর অপরাধের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র রয়েছে বলে রায় দেন।

যুক্তরাজ্যে বর্ণবাদী উত্তেজনা ও বিদ্বেষমূলক অপরাধ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ রায় এলো। দেশটিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ ক্রমেই এসব অপরাধের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন।

গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে একটি ইসলামি সমাবেশকে লক্ষ্য করে উগ্র ডানপন্থি সন্ত্রাসী হামলার হুমকির ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ। এর ছয় মাস আগে দেশটির কৌঁসুলিরা জানান, পুলিশের কাছ থেকে বিদ্বেষমূলক অপরাধের যেসব মামলা তাঁদের কাছে পাঠানো হয়েছে, তার সংখ্যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *