সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে জীবননগর প্রেসক্লাবের জরুরি সভা, বিতর্কিত ইউএনও অপসারণের দাবি

জীবননগর  প্রতিনিধি:


চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শিক্ষক কর্তৃক এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে জরুরি সভা করেছে জীবননগর প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য দায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল আমিনকে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় জীবননগর প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি মুন্সি মাহবুবুর রহমান বাবু। সাধারণ সম্পাদক নুর আলমের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা ইউএনওর আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো কর্মকর্তার মাধ্যমে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হেনস্তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সভায় আরও অভিযোগ করা হয়, ইউএনও আল আমিন সাংবাদিকদের সঙ্গে বারবার বিতর্কিত আচরণ, দাম্ভিকতা ও অহংকার প্রদর্শন করে আসছেন, যা প্রশাসনিক শিষ্টাচার ও আচরণবিধির পরিপন্থী। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

সভা শেষে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি শ্রী নারায়ণ ভৌমিক, মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি সালাউদ্দিন কাজল, দৈনিক সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি কাজী শামসুর রহমান চঞ্চল, সাংবাদিক মুন্সি রায়হান, মাজেদুর রহমান লিটন, দৈনিক জনবাণীর উপজেলা প্রতিনিধি জামাল হোসেন খোকন, মাই টিভির জেলা প্রতিনিধি মিথুন মাহমুদ, বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিনিধি এম আই মুকুল, আলম হোসেন, হাসান নিলয়, তুহিনুজ্জামান তুহিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

উল্লেখ্য, জীবননগরের হাজী মনির হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আলমের বিরুদ্ধে শিক্ষাসফরের সময় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ এবং তাকে সাময়িক বরখাস্তের সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও আল আমিন দৈনিক জনবাণীর সাংবাদিক জামাল হোসেন খোকনকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে নেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সামনে সংবাদ প্রকাশ নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে ইউএনও সাংবাদিকতা পেশা ও সাংবাদিকের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করেন। এমনকি প্রশাসনিক শালীনতার বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত পরিচয় ও অন্যান্য বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *