আব্দুল আজিজ:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে জাহেদুল আলম প্রকাশ ‘পিচ্চি জাহিদ’ (৩৩) হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে একজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত ৩০ আগস্ট রাতে সাতকানিয়ার ১৪ নম্বর পুরানগড় ইউনিয়নের শীলঘাটা সড়ক এলাকায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটা এবং সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পুরানগড় ইউনিয়নের সরকারি গাছ কাটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন মানিক। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাহিদ নতুনহাট এলাকায় মানিক ও তার সহযোগীদের হুমকি দেন।
এর জেরে গত ৩০ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পুরানগড় নতুনহাট এলাকায় জাহিদকে মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদ করেন আসামিরা। পরে রাত ১০টার দিকে জাহিদ ও তার সঙ্গে থাকা মো. ওয়াহিদ মোটরসাইকেলে করে বাজালিয়া স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় পৌঁছালে তাদের পথরোধ করা হয়।
এ সময় সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি ফেলে পথরোধ করে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি। তারা দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জাহিদ ও ওয়াহিদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত জাহিদকে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মো. ওয়াহিদও গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম-এর নির্দেশনায় বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে পাহাড়তলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আরও ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ মামলায় মোট ১২ জন এজাহারনামীয় আসামিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আব্দুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮), হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮), মো. হেলাল ও মো. আজাদ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে মো. আজাদকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।