সাতকানিয়ায় স্কুল সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

আব্দুল আজিজ-আল মাক্কী:

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ১৫নং ছদাহা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকার কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এমএ ইসহাক ও আওয়ামীপন্থী প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেনকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, স্থানীয় ছাত্র ও অভিভাবকসহ কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন সাতকানিয়া উপজেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা জাকির হোসেন রাব্বি, স্থানীয় ছাত্র-অভিভাবক আবুল হোসেন, ছাত্রনেতা শওকত, রিদওয়ান প্রমুখ। বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাতকানিয়া-লোহাগাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ইসহাক সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সাবেক সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন নদভীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতারও অভিযোগ রয়েছে। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি ও পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ নানাভাবে হয়রানি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।

তারা জানান, বছরের পর বছর স্কুলের সভাপতি পদ আঁকড়ে ধরে স্কুলকে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন। বক্তারা আরও জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক পতিত ফ্যাসিস্ট আমলে স্কুলকে অঘোষিতভাবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিণত করেছেন। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশসহ নানা রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় স্কুলকে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও জানান বক্তারা। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, ইসহাক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন এবং স্থানীয় ও উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি পাহাড় ও খাসজমি দখল, মাছের প্রকল্প ও ফলের বাগান স্থাপনসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এসব অভিযোগের পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন ঘিরে তাঁর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়েও প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানান বক্তারা।

বক্তারা বলেন, ইসহাককে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করার উদ্যোগের প্রতিবাদে গত ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি, অভিযোগ দাখিলের মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ২৪ সেপ্টেম্বর ইসহাককে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের পর কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি বা অভিযোগ রয়েছে এমন কাউকে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে তারা মেনে নেবেন না। তারা সভাপতি ইসহাক ও প্রধান শিক্ষক জামালের অপসারণের পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

পরে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মহাপরিদর্শক সরোয়ার হোসেনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে সভাপতি ইসহাক ও প্রধান শিক্ষক জামালের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। আন্দোলনকারীরা বলেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত সমাধান করা না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *