সাভারে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইট উৎপাদন, ৭ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকার সাভারে ইট উৎপাদন নিষিদ্ধ থাকার পরও চারটি ইটভাটায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তিন ব্যক্তি ও চার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মানিলন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোতে উৎপাদিত ইটের প্রাথমিক বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। পরিবেশগত অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সংশোধিত বিধান অনুযায়ী সাভার থানায় মামলাগুলো দায়ের করেছে সিআইডি।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মেসার্স এ বি এন অ্যান্ড কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. জাকির হোসেন, মেসার্স এমএইচএস স্টার ও মেসার্স এমএইচবি স্টার কোংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. আবু বকর এবং মেসার্স এ আই এম ব্রিকস কোংয়ের স্বত্বাধিকারী কাওছার আহমেদ। এ ছাড়া আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইট উৎপাদনের অভিযোগ

সিআইডি জানায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রগুলোর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে সাভারের বায়ুতে দূষণের মাত্রা নির্ধারিত বার্ষিক মানের প্রায় তিন গুণ পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। শুষ্ক মৌসুমে সাভার থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণ ঢাকায় প্রবেশ করে রাজধানীর দূষণের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ বা বায়ুদূষণপ্রবণ অবক্ষয়িত বায়ু অঞ্চলের আওতাভুক্ত ঘোষণা করে। এরপর ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ উপজেলায় সব ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানোসহ ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

তবে ওই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোতে উৎপাদন অব্যাহত রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তিন কোটি টাকার ইটের বাজারমূল্য

সিআইডির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোতে উৎপাদিত ইটের বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। পরিবেশগত অপরাধের মাধ্যমে এই অর্থ অর্জিত হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সিআইডি বলছে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিসাধনকারী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনাই এ অনুসন্ধানের লক্ষ্য। পরিবেশদূষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানিলন্ডারিংয়ের অর্থের প্রবাহ শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।

তদন্তে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিচালিত অন্য ইটভাটার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *