সিন্ধু পানিচুক্তি ঘিরে উত্তেজনা, ভারতকে পাকিস্তানের কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সিন্ধু পানিচুক্তি (আইডব্লিউটি) ঘিরে ভারতকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং পাকিস্তানের ডন–এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানের পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান তার প্রাপ্য পানির অংশ থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত হবে না। এ সময় তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “কেউ যদি আমাদের প্রাপ্য পানির ওপর হাত তোলে, আমরা সেই হাত কেটে ফেলব।”

মালিকের দাবি, পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, প্রায় অর্ধেক কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির একটি বড় অংশ সিন্ধু নদব্যবস্থার পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই পানির প্রবাহে বাধা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা পাকিস্তানের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বহু আন্তর্জাতিক নদীতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকে। সেখানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি বৈধ আন্তর্জাতিক চুক্তি বিদ্যমান থাকার পরও পানি আটকে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

এদিকে, একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু পানিচুক্তি এখনও আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে এবং এটি কোনো পক্ষ একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইনও পাকিস্তানের এই অবস্থানকে সমর্থন করে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন যে, “পানি পাকিস্তানের লাইফলাইন এবং এটি আমাদের রেডলাইন।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হন। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে চুক্তিটি নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিল এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারত সিন্ধু নদব্যবস্থার পানিতে নিজেদের প্রাপ্য অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করবে এবং ভারতের জন্য বরাদ্দ “এক ফোঁটা পানিও পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না।” এরই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে।

তবে এনডিটিভি জানিয়েছে, মুসাদিক মালিকের বক্তব্য পাকিস্তানের কয়েকটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও, সংবাদমাধ্যমটি স্বাধীনভাবে তার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিচুক্তি (আইডব্লিউটি) অনুযায়ী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদী ও এর ছয়টি প্রধান উপনদীর পানির বণ্টন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *