সূর্যের চেয়েও ভয়ংকর নক্ষত্রকে গিলে ফেলল ব্ল্যাক হোল, তারপর মহাকাশে ঘটল বিস্ময়কর বিস্ফোরণ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মহাকাশে এমন এক ভয়ংকর ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, যা একই সঙ্গে বিস্ময় ও রহস্য তৈরি করেছে। একটি বিশাল নক্ষত্র ব্ল্যাক হোলের প্রবল মহাকর্ষের কাছে গিয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। এরপর সেই নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে অস্বাভাবিক শক্তিশালী এক মহাজাগতিক বিস্ফোরণ। বিজ্ঞানীদের হিসাবে, ওই বিস্ফোরণ থেকে অল্প সময়ের জন্য যে পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়েছে, তা সূর্যের শক্তির প্রায় ৪০০ বিলিয়ন গুণ।

ঘটনাটির বৈজ্ঞানিক নাম AT2024wpp। গবেষকেরা এটিকে বিরল ধরনের একটি মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর তীব্র আলো ও অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ঘটনাটির ডাকনাম দেওয়া হয়েছে ‘Whippet’। বিজ্ঞানীদের ধারণা, একটি বিশাল নক্ষত্র ব্ল্যাক হোলের অত্যন্ত কাছে চলে যাওয়ার পর তার প্রবল মহাকর্ষীয় টানে নক্ষত্রটি টুকরো টুকরো হয়ে যায়।

কীভাবে ঘটে এমন ঘটনা?

কোনো নক্ষত্র যখন একটি অতিভারী ব্ল্যাক হোলের খুব কাছাকাছি চলে যায়, তখন ব্ল্যাক হোলের মহাকর্ষীয় টান নক্ষত্রটির ওপর অসম চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে নক্ষত্রটি নিজের আকৃতি ধরে রাখতে না পেরে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানে এ ধরনের ঘটনাকে Tidal Disruption Event (TDE) বলা হয়।

এ সময় নক্ষত্রের গ্যাস ও অন্যান্য পদার্থ ব্ল্যাক হোলকে ঘিরে দ্রুত ঘুরতে থাকে এবং একটি উত্তপ্ত ডিস্কের মতো কাঠামো তৈরি করতে পারে। সেই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়। তবে AT2024wpp-এর ঘটনা সাধারণ TDE-এর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও অস্বাভাবিক বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।

বিস্ফোরণের শক্তি কতটা ভয়ংকর?

বিজ্ঞানীদের হিসাবে, এই মহাজাগতিক ঘটনার সময় অল্প সময়ের জন্য যে শক্তি নির্গত হয়েছিল, তা সূর্যের শক্তির প্রায় ৪০০ বিলিয়ন গুণ। গবেষকদের দাবি, শক্তির দিক থেকে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী পরিচিত সুপারনোভার ঘটনাগুলোকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এই অস্বাভাবিক উজ্জ্বল ঘটনাটি প্রথম শনাক্ত করেন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী আনা হো। ক্যালিফোর্নিয়ার পালোমার অবজারভেটরিতে পরিচালিত Zwicky Transient Facility-এর পর্যবেক্ষণে ঘটনাটি ধরা পড়ে। পরবর্তী পর্যবেক্ষণে লিভারপুল টেলিস্কোপ ও নাসার Swift স্যাটেলাইট থেকেও এর বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়।

কেন বিজ্ঞানীদের কাছে এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

ব্ল্যাক হোল সাধারণত সরাসরি দেখা যায় না। আশপাশের পদার্থের ওপর তাদের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেই বিজ্ঞানীরা এসব রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তুর অস্তিত্ব ও আচরণ সম্পর্কে ধারণা পান। কোনো নক্ষত্র ব্ল্যাক হোলের খুব কাছে গিয়ে ধ্বংস হয়ে গেলে সেই ঘটনাটি ব্ল্যাক হোলের মহাকর্ষ, নক্ষত্রের গঠন এবং চরম মহাজাগতিক পরিবেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

AT2024wpp-এর বিশেষত্ব হলো এর বিপুল শক্তি ও দ্রুত পরিবর্তনশীল আলো। ফলে এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে মহাবিশ্বের সবচেয়ে চরম ঘটনাগুলোর একটি বোঝার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

অর্থাৎ, মহাকাশের অন্ধকারে একটি বিশাল নক্ষত্রের পরিণতি শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে এক ভয়ংকর আলোর বিস্ফোরণে। কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের সেই ঘটনার আলো এখন পৃথিবীতে পৌঁছে বিজ্ঞানীদের সামনে তুলে ধরছে মহাবিশ্বের অন্যতম নাটকীয় এক দৃশ্য—একটি নক্ষত্রের মৃত্যু এবং ব্ল্যাক হোলের ভয়ংকর মহাকর্ষীয় শক্তির সাক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *