সেচ সংকটে বোরো আবাদ ব্যাহত, ক্ষতির মুখে শত শত কৃষক

মোঃ মনির হোসেন:

হাইমচর পৌরসভা-এর ৯নং ওয়ার্ডে জনতা বাজার ব্রিজ সংলগ্ন একটি সরকারি খাল দখল ও ভরাট করে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে খালটি বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় বোরো ধান চাষে মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচ সংকটে পড়ে শত শত কৃষকের জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মফিজ আখন্দ ও আলমগীর আখন্দ খালটির দুই পাশে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।

এলাকাবাসী জানান, গত ৩ বছর ধরে জনতা বাজার ব্রিজের দক্ষিণ পাশের অংশ খনন করা সম্ভব হয়নি। একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা অবিলম্বে খাল দখলমুক্ত করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জোর দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাবু মাস্টারের বাড়ির মোড় থেকে জনতা বাজার ব্রিজের গোড়া পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৭৪০ মিটার খাল খননের কথা থাকলেও প্রভাবশালীদের কারণে প্রায় ৮০ মিটার অংশ অসম্পূর্ণ রাখার গুঞ্জন রয়েছে। বর্তমানে খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও আগের মতোই কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।

১৮ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালে পর্যাপ্ত পানি নেই। যেখানে এক মাস আগেই পানি আসার কথা ছিল, সেখানে বর্তমানে সামান্য পানি পাওয়া যাচ্ছে। এই পানি দিয়ে দুটি বৃহৎ কৃষি প্রকল্পে সেচ দেওয়া একেবারেই অসম্ভব বলে জানান কৃষকরা। ফলে প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান চরভাঙ্গা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মনির হোসেন মিজি, হাসান পাটওয়ারী, আল আমিন পাটওয়ারী, আমিন পাটওয়ারী, আনোয়ার হোসেন দেওয়ান, আব্দুল কাদির চৌকিদারসহ আরও অনেকে।

তারা বলেন, “দ্রুত খালের বাকি অংশ খনন ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ না করা হলে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এ বিষয়ে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত নই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন অফিসের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমরা গত বছর জেলা প্রশাসক, চাঁদপুরকে উচ্ছেদের জন্য জানিয়েছিলাম। জেলা প্রশাসক উচ্ছেদের অনুমতি দেন। হাইমচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এক দিনের সময় নেন। পরবর্তীতে আর উচ্ছেদ করা হয়নি। এ বছর আবারও আমরা গত বছরের উচ্ছেদের কাগজপত্র পাঠাবো।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *