আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান সংঘাত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ আশ্বাস দেওয়া হলো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পূরণ করা হবে।
রুবিও বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। আমরা এতে দেওয়া আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। অবশ্যই করব।’
সাক্ষাৎকারে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যকার চলমান সংঘাতের বিষয়েও কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এ সংঘাতকে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও জটিল পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর জেরে সৌদি আরবও পাল্টা সামরিক অভিযান চালিয়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সীমান্তপারের হামলা বেড়েছে এবং এর প্রভাব ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতির ওপরও পড়ছে।
এদিকে হুতিদের সামরিক তৎপরতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় জি-৭ জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানকে হুতিদের প্রতি অস্ত্র ও সহায়তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হুতিদের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এর আগে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, হুতিদের হামলা বাড়ার প্রেক্ষাপটে তুরস্ক সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন মেটাতে সহযোগিতার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
রুবিওর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। তবে তিনি সাক্ষাৎকারে চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব ও আঞ্চলিক নৌপথের নিরাপত্তার ওপরও পড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব নৌপথে অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলছে।