মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ফুসে উঠেছে হকাররা। দফায় দফায় আল্টিমেটাম ও হুঁশিয়ারির পর এবার নাসিক কর্মচারীদের পিটুনি দিয়েছে হকাররা। এতে শহরজুড়ে উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। এ নিয়ে নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার (৪ মে) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া নূর মসজিদের সামনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দুই কর্মচারীকে পিটুনি দিয়েছে হকাররা। আহত দুই কর্মচারীর নাম জাহাঙ্গীর এবং রুহুল। তারা সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানে নিয়মিত কাজ করছেন। এ সময় তাদের কাছে থাকা মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে হকারদের বিরুদ্ধে। তবে হামলাকারী হকারদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা যায়, বিকেলে প্রতিদিনের মতো হকার উচ্ছেদে কাজ শুরু করে সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীরা। এ সময় হকাররা একটি মিছিল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে করে জাহাঙ্গীর ও রুহুলসহ অন্তত পাঁচ-ছয়জন আহত হন। ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সামাওয়াত হোসেন খান বলেন, “এটা হকারদের অত্যন্ত বাড়াবাড়ি। তাদের বিষয়ে আমরা চিন্তা করছি। তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কথাও বলেছি। সেই পর্যন্ত তারা যদি ধৈর্য না রাখে, সেটা আইনের পরিপন্থী। আজ যেটা করেছে, সেটা আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। আমাদের কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে, গত ১৩ এপ্রিল হকারদের বঙ্গবন্ধু সড়কসংলগ্ন ব্যস্ততম সড়কগুলোর ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এর পর থেকে প্রায় প্রতিদিন ফুটপাতে হকার বসানোর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে আসছে হকাররা। সেসব মিছিল থেকে নানা রকম আল্টিমেটামসহ হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
গত ৩ মে হকারদের মিছিলে জাতীয়তাবাদী হকার্স ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি শাহজাহান, ওরফে ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’-কে দেখা গেছে। ওই দিন তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে নিয়েও কটূক্তি করেন।